খুলনা-মোংলা রেলপথের কাজ ডিসেম্বরে শেষ হবে

খুলনা-মোংলা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। রেললাইন টেলি কমিউনিকেশন সিগনালিং ও রূপসা নদীতে সেতু নির্মাণসহ প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতির কাজ ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ শেষ করতে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে কয়েক গুণ।

 

শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মোংলা বন্দরে ঝটিকা সফরে এসে কাজ পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার।

এ সময় কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে খুলনা-মোংলা রেললাইন নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে যেকোনও দিন খুলে দেওয়া হবে।

 

জানা গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বৃদ্ধিতে বন্দরকে সংযুক্ত করে খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। জমি অধিগ্রহণ, রেললাইন ও রেল সেতু নির্মাণসহ পুরো প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এরপর পাঁচ দফা কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ২৬০ কোটি ৮৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকায়।

 

চলমান প্রকল্পের ভারতীয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘ইরকন ইন্টারন্যাশনাল’ এর প্রজেক্ট ম্যানেজার বলরাম দে জানান, খুলনা-মোংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ছোট-বড় মিলিয়ে ৩১টি সেতু ও ১০৮টি কালভার্ট নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। রূপসা নদীর ওপর রেলসেতুর কাজ ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন। পাইলিংয়ের কাজও শেষের দিকে। এরপর মাত্র দুটি স্প্যান জোড়া লাগবে। এছাড়া এখনও ৯টি ভেকুলার আন্ডারপাসের কাজ বাকি আছে। এগুলোর ড্রইং হাতে এলে দ্রুত শেষ করা হবে।

 

খুলনা-মোংলা রেললাইন নির্মাণ কাজের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. আরিফুজ্জামান জানান, রেলপথের কিছু অংশ, রেসেতুর পাঁচ শতাংশ ও ফিনিশিং ওয়ার্ক বাকি আছে। তবে নতুন ডিজাইনের ৯টি রোড আন্ডারপাস নির্মাণ, পাইলের লেন সংখ্যা বৃদ্ধি ও মাটির কাজসহ নতুন কিছু কাজ সংযোজন হয়েছে। সেই হিসাবে আগের একশ’ শতাংশ কাজের সংঙ্গে আরও ১২ শতাংশ কাজ বেড়েছে। বর্তমানে রেললাইনের মূল ভৌত অবকাঠামো কাজ ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হবে।

সময় বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, করোনাকালে ভারত থেকে মালামাল আসতে ও নানা সংকটে শুরুতেই নির্মাণ কাজে বিলম্ব হয়েছে।

 

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, চলমান এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মোংলা বন্দরের গতি আরও বাড়বে। মোংলা বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হবে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় ও বাংলাবান্ধা হয়ে ভারতের শিলিগুড়ির রেল যোগাযোগ। ফলে কম খরচে ভারত, নেপাল ও ভুটানের মালামাল পরিবহন সহজ হবে। এতে আমদানি-রফতানি বৃদ্ধির সঙ্গে কন্টেইনার সার্ভিসও বাড়বে।