ইউক্রেনে বাংলাদেশি জাহাজে রকেট হামলা, নিহত নাবিক

যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ রকেট হামলার শিকার হয়েছে। হামলায় জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমানের (৩৩) মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

নিহত নাবিক হাদিসুর রহমান আরিফ বরগুনার বেতাগী উপজেলার ৩ নম্বর হোসনাবাদ ইউনিয়নের আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের ছেলে। তার চাচা বেতাগী উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান ফোরকান।

 

হামলায় হাদিসুরের মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট সাজিদ হুসাইন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৯টা ২৫ মিনিটে ‘বাংলার সমৃদ্ধি’তে রকেট হামলা হয়েছে। এতে ওই জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমান মারা গেছেন। বাকিরা ভালো আছেন।

 

এছাড়া এ ঘটনায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন সাজিদ। স্ট্যাটাস হুবুহু তুলে ধরা হলো-

 

এমভি বাংলার সমৃদ্ধিতে রকেট হামলা। একজন বাদে বাকি সবাই অক্ষত। কিছুক্ষণ আগে বাংলাদেশ সময় (২ মার্চ ২০২২) রাত প্রায় ৯:২৫-এ জাহাজের ব্রিজে রকেট হামলা হয়েছে। সবার সাহসী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে আগুন নিভাতে পেরেছে। সবাই আল্লাহর কাছে ওদের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করি।

গভীর বেদনার সাথে জানাচ্ছি যে জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমান মৃত্যুবরণ করেছেন।

 

যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে আটকে পড়ে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’। জাহাজটিতে ২৯ জন বাংলাদেশি নাবিক ছিলেন। জাহাজটি বর্তমানে ইউক্রেনের অলিভিয়া বন্দর চ্যানেলে নোঙর করা আছে। রকেট হামলার পরে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা জানার চেষ্টা চলছে।

 

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, সিরামিকের কাঁচামাল ‘ক্লে’ পরিবহনের জন্য জাহাজটি তুরস্ক থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের জলসীমায় পৌঁছায়। সেখান থেকে কার্গো নিয়ে ইতালি যাওয়ার কথা ছিল। তবে যুদ্ধাবস্থা এড়াতে জাহাজটিকে সেখানে পৌঁছানোর পরই পণ্য বোঝাই না করে দ্রুত ফেরত আসার জন্য নির্দেশনা দেয় শিপিং কর্পোরেশন। শেষ মুহূর্তে বন্দরের পাইলট না পাওয়ায় ইউক্রেনের জলসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বাংলাদেশের এই জাহাজ। এরপর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।