সাতক্ষীরায় ৫০ বছরের কুমারীর বিয়ে ৬৮ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে ৬৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের সঙ্গে ৫০ বছর বয়সী এর নারীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৪ মার্চ) কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বাথুয়াডাঙ্গা গ্রামে ধুমধামে এই বিয়ে হয়।

 

অভাবের সংসারে জন্ম হয়েছিল হামিদা বেগমের। তার বয়স এখন ৫৮ বছর। বাবা-মাকে হারিয়েছেন অনেক আগেই। দুই বোনের মধ্যে বড় তিনি। ছোট বোনের বিয়ে হয়ে গেলে একা হয়ে যান হামিদা। তবে নিজে বিয়ে করতে রাজি ছিলেন না। অবেশেষে হামিদা বেগম বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন। গ্রামবাসীর আয়োজনে ৬৮ বছর বয়সী মোকছেদ আলী গাজীর সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

হামিদা বেগম সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বাথুয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত শহর আলী গাজীর মেয়ে। দিনমজুরের কাজ করে কোনো মতে চলতেন তিনি। বর মোকছেদ আলী গাজী একই উপজেলার নলতা ইউনিয়নের ঘোনা গ্রামের মৃত ছবেদ আলী গাজীর ছেলে। তিনি নিজের জমিজমা দেখাশোনা করেন।

 

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার নলতা ইউনিয়নের ঘোনা গ্রামের ৬৮ বছর বয়সী মোকছেদ আলী গাজীর স্ত্রী কয়েক মাস আগে মারা যান। অন্যদিকে, তারালী ইউনিয়নের বাথুয়াডাঙ্গা গ্রামের হামিদা বেগমের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী বয়স ৫০ বছর। তবে স্থানীয়দের ভাষ্যমতে তার বয়স ৬০ বছরের বেশি। তবে তিনি এতদিন বিয়ে না করে কুমারী ছিলেন। পরিবার থেকে একাধিকবার বিয়ের চেষ্টা করলেও তিনি কখনো বিয়ের পিঁড়িতে বসতে রাজি হননি।

 

তবে সম্প্রতি মোকছেদ আলী ও হামিদা বেগমের মধ্যে ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা তৈরি হয়। এরপর দুই পরিবারের সম্মতিতে ধুমধামে শুক্রবার দুপুরে তারালী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেনের উপস্থিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে তারালী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন বলেন, দুই পরিবারের সম্মতিতে আজ হামিদা বেগম আর মোকছেদ আলীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। নবদম্পতি দু’জনই অনেক খুশি। তারা সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।