দৌলতপুরে ছুরিকাঘাতে মৃত্যু: বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

জাহাঙ্গীর আলম টুটুল (৪০) ছুরিকাঘাতে মৃত্যুর সু-বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার বিকেলে দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে জাহাঙ্গীর আলম টুটুলের হত্যাকারী পলাতক আসামীদের খুজে বের করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান।

 

জানাগেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জমি-জমা সংক্রান্ত শালিশ শেষে বাদি পক্ষের লোকজনের ছুরিকাঘাতে বিবাদিপক্ষের জাহাঙ্গীর আলম (৪০) ঘটনার ৩ দিন পর গত রোববার ভোরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। জাহাঙ্গীর আলম (৪০) উপজেলার ১ নং প্রাগপুর ইউপির রঘুনাথপুর গ্রামের মোঃ রুহুল আমিন এর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান , প্রায় ২০ একর জমি নিয়ে মামলা মোকদ্দমা হয় ৪৭ বছর আগে। বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে চলমান, এর পরও পুনরায় কয়েকদিন আগে দৌলতপুর উপজেলার ১১ নং আদাবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর অত্র ইউপির ৭ নং ওয়ার্ডের মৃত জফের শাহ্ এর পুত্র মনিরুল ইসলাম (৪৫) বাদি হয়ে আবেদন করেন মিমাংসা চেয়ে। মামলাটি হাইকোর্টে চলমান আছে জেনেও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাকি ওরফে বাকি কাজি মিমাংশার জন্য উভয় পক্ষকে ডেকে নিয়ে এসে তার কার্যালয়ে গত বুধবার দুপুরে এজলাসে বসে।

 

এদিকে সালিসকে কেন্দ্র করে বাদিপক্ষের লোকজন লাঠিসোডা নিয়ে সুসজ্জিত দেখে বিসৃংক্ষলা হতে পারে ভেবে বিবাদিগণ চেয়ারম্যান বাকি-কে মিমাংসার জন্য বসতে নিষেধ করার পরও বিবাদীদের সালিসে বসতে বাধ্য করান। এক পর্যায়ে বাদি-বিবাদীর বাকবিতন্ডায় সালিশ বন্ধ করে দেন চেয়ারম্যান। উভয় পক্ষের লোকজন ইউপি কার্যালয় ত্যাগকালে বাদি পক্ষের লোকজন বিবাদি পক্ষের লোকজনের উপর হামলা চালায়। এতে বাদী পক্ষের ছুরিকাঘাতে মোঃ রুহুল আমিন এর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪০)-কে পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। গত রোববার ভোরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় জাহাঙ্গীর আলম এর।

 

নিহত জাহাঙ্গীর আলমের বাবা রুহুল আমিন জানান প্রায় ২০ একর জমি আমাদেরই ভোগদখলে, বাদিগনের দেয়া মামলা প্রায় ৪৭ বছর চলছে হাইকোর্টে। এর পরও বাদিগন পুনরায় ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করলে শালিশি বৈঠক বসায় পরিষদে গত বুধবার, বাকবিতন্ডা দেখে শালিশ বন্ধ করে চেয়ারম্যান। বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলে পরিষদের সামনে অতর্কিত হামলা করলে আমার ছেলে জাহাঙ্গীর ও ভাতিজাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করলে গুরুতর আহত হয়। গত রোববার ভোরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় আমার ছেলে জাহাঙ্গীরের।