চুয়াডাঙ্গায় মসজিদের টাকা তোলা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১৩

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাছেরদাড়ি গ্রামে মসজিদের ইমামের বেতনের টাকা তোলা নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নেওয়া হয়। সেখানেও উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সোমবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

 

পরে হাসপাতালে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ এ ঘটনায় সাতজনকে আটক করেছে বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন।

 

আহতরা হলেন- সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের মাছেরদাইড় গ্রামের মৃত আবেদ আলীর ছেলে ইব্রাহিম (৫২), একই এলাকার জাহাঙ্গীরের ছেলে তোতা মিয়া (৩৪), মিজানুর রহমানের ছেলে শাওন (২২), ছলেমান মিজির ছেলে ইছানুল হক (৫০), মিজানুর রহমানের ছেলে রাজু (৩০), মৃত আলী আজগরের ছেলে মাহাবুল (৪০), হোসেন আলীর ছেলে আনিক (১৭), মৃত আব্দুল বাতেনের ছেলে (ক্যাশিয়ার) আশকার আলী (৪০), তার স্ত্রী রিজিয়া পারভিন (৪৬), মৃত নুরু ব্যাপারীর ছেলে তাইজেল আলী (৩৫), আলী কদরের ছেলে বাবুল আলী (৪০) ও মৃত শের আলী দেওয়ানের ছেলে সালাউদ্দিন (৪০)।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুল হক বলেন, মসজিদের ইমামের বেতনের টাকা তোলা নিয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি শহিদুল্লাহ ও ক্যাশিয়ার আশকার আলীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে সোমবার বিকেলে উভয়পক্ষের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

 

এদিকে সংঘর্ষের পর আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে উভয়পক্ষের লোকজন আবারো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, চিকিৎসক ও স্টাফদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে হাসপাতালে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতাল চত্বর থেকে দুজনকে আটক করে নেওয়ার সময় পুলিশের গাড়ি থেকে অভিযুক্তদের ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেন স্বজনরা।

 

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন বলেন, আহতদের অবস্থা শঙ্কামুক্ত। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সবাইকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।