চুয়াডাঙ্গায় ‘সুইসাইড নোট’ লিখে মাদ্রাসাছাত্রীর আত্মহত্যা

চুয়াডাঙ্গায় মাদ্রাসাছাত্রী মাসুমা খাতুনকে (১৮) আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তাঁর বাবা মো. আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। গতকাল রোববার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চুয়াডাঙ্গা শহরের আরামপাড়ার কালাম হোসেনকে (২৬) আসামি করে মামলাটি করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর থানায়, মামলা নং-১৪।

 

এর আগে মাসুমা খাতুন শহরের হকপাড়ার বাড়িতে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। সদর থানা-পুলিশের একটি দল গতকাল মধ্যরাতে মাসুমার শোবার ঘর থেকে পাঁচ পৃষ্ঠার একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করেছে। তাতে লেখা আছে, ‘কালাম এর কানে আমার মরার খবরটা দিও, তাহলে আব্বারে আর কিছু করবে না।’

মাসুমার লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে আজ সোমবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা শহরের জান্নাতুল মাওলা কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মাসুমা চুয়াডাঙ্গা শহরের রেল বাজার এলাকার আলিয়া মাদ্রাসার (চুয়াডাঙ্গা ফাজিল মাদ্রাসা) আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। মামলার বাদী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকাশ্যে আমার মেয়ে মাসুমাকে মারপিট করে ও বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল কথাবার্তা বলে সম্ভ্রমহানি ঘটায়। এর ফলে সে (মাসুমা) আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। আমি অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

 

সরেজমিনে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা শহরের রেলস্টেশনসংলগ্ন গমপট্টি এলাকার চা–দোকান থেকে আমিনুল ইসলাম সংসার চালান। তাঁর কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় দীর্ঘ সাত বছর ধরে ছোট মেয়ে মাসুমা খাতুন পড়াশোনার পাশাপাশি দোকানে বসে বাবাকে সহযোগিতা করতেন। দোকানে বসলে এবং মাদ্রাসা ও প্রাইভেট পড়তে যাওয়া–আসার পথে বখাটে কালাম হোসেন নানাভাবে মাসুমাকে উত্ত্যক্ত করতেন।

 

বিবাহিত হয়েও কালাম বেশ কিছুদিন ধরে মাসুমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। মা–বাবা রাজি না হওয়ায় মাসুমাকে তাঁর সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার জন্যও চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রকাশ্যে মারপিট ও গালিগালাজ করেন। শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেন মাসুমা। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসীন বলেন, উপপরিদর্শক মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাদীর লিখিত এজাহারে দেওয়া অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিন খোঁজ নিয়ে সত্যতা মিলেছে। মাসুমার নিজ হাতে লেখা সুইসাইড নোট মামলার তদন্তে ও অপরাধ প্রমাণে সহায়ক হবে।