চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনের টিকিট পেতে ভোগান্তি

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট দেওয়া বন্ধ থাকায় চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট প্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ভোর থেকে অপেক্ষা করেও টিকিট না পেয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে অনেককে।

 

টিকিট প্রত্যাশীদের অভিযোগ, কাউন্টার থেকে দ্রুত টিকিট দেওয়া হচ্ছে না। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত কাউন্টারের সামনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবুও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত টিকিট। কেউ কেউ টিকেট না নিয়েই ফিরে যাচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে না। সব টিকিট ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দেওয়া হচ্ছে। তাই একটু সময় বেশি লাগছে।

 

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ১৫ বছর ট্রেনের টিকিট বিক্রি করেছে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস)। সম্প্রতি নতুন চুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির পরিবর্তে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে ‘সহজ লিমিটেড’। দায়িত্ব হস্তান্তরে সময় লাগবে পাঁচ দিন। এ কারণে সোমবার থেকে শুক্রবার (২১ মার্চ-২৫ মার্চ) পর্যন্ত অনলাইনের পরিবর্তে স্টেশনে গিয়েই কাটতে হবে টিকিট।

 

এক দিন আগে অর্থাৎ ২১ মার্চ সোমবার দেওয়া হয়েছে ২২ মার্চের অগ্রিম টিকিট, আজ ২২ মার্চ দেওয়া হবে ২৩ মার্চের টিকিট, ২৩ মার্চ দেওয়া হবে ২৪ মার্চের টিকিট, ২৪ মার্চ দেওয়া হবে ২৫ মার্চের অগ্রিম টিকিট এবং আগামী ২৬ মার্চ থেকে আগের নিয়মে ট্রেনের টিকিট ব্যবস্থাপনার কাজ করবে সহজ ডট কম লিমিটেড।

 

দেখা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিট দিতে অনেক সময় লাগছে। ফলে কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। একটি টিকিটের জন্য যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

 

বেসরকারি চাকরিজীবী আলম আশরাফ বলেন, ব্যক্তিগত কাজে যশোরে যাওয়ার জন্য টিকিট কাটতে এসেছি। আড়াই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও স্টেশনে টিকিট না থাকায় পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। পরে গন্তব্য থেকে বেশি দূরত্বে খুলনার টিকিট কেটে বাড়ি ফিরতে হলো।

 

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার একেএম ইউসুফ পলাশ বলেন, ২১ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিন অনলাইনে টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সহজ ডট কম টিকিটের দায়িত্ব গ্রহণের সুবিধার্থে অনলাইনে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম বন্ধ আছে।

 

তিনি বলেন, সব টিকিট হাতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের লোকবল সঙ্কট রয়েছে। হাতে লেখার কারণে একই টিকিট নম্বর যেন দ্বিতীয়বার না হয় সেজন্য সময় বেশি লাগছে। এতে টিকিট প্রত্যাশীরা ভোগান্তিতে পড়ছে। ২৫ তারিখের পর থেকে সবকিছু স্বাভাবিক হবে।