শনিবার থেকে অনলাইনে পাওয়া যাবে ট্রেনের টিকিট

পাঁচ দিন পর শনিবার (২৬ মার্চ) থেকে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটা যাবে। তবে টিকিট কাটতে স্টেশনে যাওয়া যাত্রীদের ভোগান্তি আজ (শুক্রবার) থেকেই অনেকটা কমবে। 

 

কারণ, আজ সন্ধ্যা ছয়টা থেকে দেশের ৭৭টি স্টেশনের কাউন্টারে কম্পিউটার ব্যবহার করে টিকিট দেওয়া শুরু হবে। এদিন কম্পিউটার ব্যবহার করে দেওয়া হবে ২৬ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ তারিখ পর্যন্ত চলাচলকারী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট।

 

বাংলাদেশ রেলওয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২৫ তারিখ যাত্রা করা ট্রেনের টিকিট হাতে লিখেই দেওয়া হবে। এদিন যাত্রা করা ট্রেন ২৬ তারিখ যেসব স্টেশনে থামবে সেখান থেকেও এর টিকিট দেওয়া হবে হাতে লিখে।

 

বিজ্ঞপ্তি থেকে আরও জানা গেছে, ২৬ তারিখ থেকে হাতে লিখে টিকিট বিক্রি শেষ হওয়ার পাশাপাশি শুরু হবে অনলাইনে টিকিট বিক্রি। অর্থাৎ, ২৬ তারিখ থেকে ঘরে বসে অনলাইনেই (eticket.railway.gov.bd) কাটা যাবে ট্রেনের টিকিট। নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী আগের মতো সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) রেলওয়ের পরিচালক ট্রাফিক (বাণিজ্যিক) নাহিদ হাসান খান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

তবে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে কবে থেকে টিকিট কাটা যাবে তা জানা যায়নি বিজ্ঞপ্তি থেকে। জানা গেছে, গত ২১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। হাতে লিখে টিকিট বিক্রি করার কারণে অনেক বেশি সময় লাগছে। এছাড়া অনলাইনে টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকায় স্টেশনে টিকিট কাউন্টারে প্রচুর ভিড় হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন টিকিট প্রত্যাশীরা।

 

হাতে লিখে টিকিট বিক্রির কারণ হিসেবে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিট সার্ভিস প্রোভাইডার পরিবর্তন হয়েছে। নতুন কোম্পানির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরকালীন সময়ে কারিগরি জটিলতায় অনলাইনে টিকিট বিক্রি বন্ধ করা হয়। এ সময় ২৫ মার্চ পর্যন্ত স্টেশনের কাউন্টার থেকে হাতে লিখে টিকিট বিক্রি চালু রাখা হয়।

 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ রেলওয়েতে ১৯৯৪ সালে কম্পিউটার ভিত্তিক টিকিটিং সিস্টেম চালু করা হয়। ২৭টি স্টেশনে কম্পিউটারের মাধ্যমে টিকিট ইস্যু করা হতো। বর্তমানে ১০৪টি আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট ৭৭টি স্টেশনে কম্পিউটারের মাধ্যমে ইস্যু করা হচ্ছে। দৈনিক প্রায় ৯০ হাজার ও মাসিক প্রায় ২৭ লাখ যাত্রীর টিকিট কম্পিউটারের মাধ্যমে ইস্যু করা হয়। এ সকল টিকিটের ৫০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১৩ লাখ টিকিট ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ইস্যু করা হচ্ছে।