চুয়াডাঙ্গায় কেজি দরে তরমুজ বিক্রি হিমসিম খাচ্ছে ক্রেতা সাধারণ

চুয়াডাঙ্গায় আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে ব্যবসায়িকরা তরমুজ আমদানী করলেও ব্যাপক দামে বিক্রি করছে।৩১ মার্চ বাজার ঘুরে দেখা যায় তরে তরে আড়ৎগুলোতে তরমুজ সাঝিয়ে রেখেছে কিন্তু দাম বেশি থাকায় বেচা কেনা কম । চুয়াডাঙ্গার ব্যবসায়িকরারা তরমুজ থাওকো দরে কিনলেও কেজি দরে বিক্রি করছে এতে হিমসিম খাচ্ছে ক্রেতা সাধারণ।

 

বাজারে তরমুজ কিনতে আসা বাগান পাড়ার বাসিন্দা সাব্বির আহমেদ চঞ্চল জানায়, তরমুজ পছন্দ হলেও কেনার উপায় নেই । বর্তমান যে ফলের দাম তা সাধারণ মানুষ কিনে খাওয়ার উপায় নেই । সামনে রমজান মাস আসছে,তরমুজের দাম কম হলে স্বাছন্দভাবে তরমুজ কিনে খেতে পারতাম । তার দাবী বড় বড় ব্যবসায়িকদের কাছে কম দামে বিক্রি করেন যাতে তরমুজ কিনতে পারে সকল শ্রেণির মানুষ।

 

এদিকে শাহাদৎ হোসেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন বাজার মনিটোরিঙের কোন ব্যবস্থা নাই । তিনি বলেন আমার তরমুজ কেনার ইচ্ছা থাকলেও দাম শুনে আৎকে উঠছি। যে তরমুজ বরিশাল এলাকায় ৫০ টাকা সেটা আমাদের কিনতে হচ্ছে ২০০ টাকা দিয়ে । কারো কারো কেনার সাধ্য থাকলেও পিস ধরে কিনে এখানে হিসেব করে কেজি দরে বিক্রয় করা হচ্ছে।যার কারণে তরমুজ কিনতে পকেট পানে খেয়াল করতে হচ্ছে।

 

সরকারী কর্মচারী রজব আলী জানান ,বরিশালে যে তরমুজ ৮০ টাকায় কেনা যায় সেটি এখানে ২৫০টাকা থেকে ৩০০ টাকায় কিনতে হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা শহরের রেলবাজারে ৫টি পাইকারী আড়ৎ আছে । প্রতিদিন বরিশাল ,কোয়াকাটা,পটুয়াখালী ও বরগুনা থেকে ২ ট্রাক করে তরমুজ আসে এখানে। এ আড়ৎগুলো থেকে খুচরা বিক্রেতারা নিলামে তরমুজ কিনে নিয়ে যায় ।

 

চুয়াডাঙ্গা পৌর সভার সামনে খুচরা ফল বিক্রেতা মনোয়ার হোসেন জানান, আড়ৎ থেকে ছোট,মাঝারি ও বড় গাদা ধরে কিনতে হয় । ১০০ তরমুজের দাম পড়ছে ১২ হাজার টাকা থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত । ক্রেতাদের কাছে কোয়ালিটি অনুযায়ী ১৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করছি। পিস দরে কিনে কেজি দরে বিক্রি করছেন কেন ? এ ব্যাপারে তিনি জানান,ক্রেতা যেভাবে কিনবে আমরা সেভাবেই বিক্রি করবো। একই কথা বলেন চুয়াডাঙ্গা শহরের একাধিক খুচরা ব্যবসায়িক। তাদের মধ্যে তানভির, কাজল ,মিল্টন, সামিম বলেন ,আপনি তরমুজ যেভাবে কিনবেন একই দর পড়বে ।

 

অটো চালক খোকন বলেন ,প্রতি বছর বাজারে তরমুজ এলে খেতে ইচ্ছা হয় । কিন্তু বিক্রেতাদের কারসাজির কারণে তরমুজ কিনতে পারি না । ব্যবসায়িকরা সিন্ডিকেট করে বাজারে এমনভাবে তরমুজ বিক্রি করছেন যাতে আমরা তরমুজ কিনতে না পারি । চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের খুচরা ব্যবসায়িক তানভির বলেন আমরা বাধ্য হয়েই কেজি দরে বিক্রি করি ।
চুয়াডাঙ্গা রেল বাজার গুরু ফল ভান্ডারের মালিক নাজমূল হাসান জানান,বরিশাল ,কোয়াকাটা,বরগুনা ও পটুয়াখালীর তরমুজ আমরা জমি ও ট্রলার থেকে কিনি । একটি ট্রাকে আটাশ শ থেকে তিন হাজার পিস তরমুজ থাকে । এক ট্রাক মাল চুয়াডাঙ্গায় আনতে আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ টাকা খরচ পড়ে।তরমুজগুলোর আনুমানিক মুল্য পড়ে ১৫০টাকা থেকে২০০ টাকা । আমরা পাইকারী ১৮০ থেকে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি করছি। খুচরা ব্যবসায়িরা সেটা আরো৪০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করবে। কাঁচা বাজারের নিয়ন্ত্রণ নেই, যেভাবে পড়তা হয় সেভাবে আমরা বিক্রি করবো।আজ যে মাল ২৪ হাজারটাকায় কিনছি সেটা আগামীকাল ২০ হজোর টাকায় কিনতে পারবো। আবার আগামীকাল যেটা ২০ হাজার টাকায় কিনছি সেটা তার পরের দিন আরো বেশি দামে কিনতে হতে পারে।

 

চুয়াডাঙ্গা একাডেমী মোড়ের ফল ব্যসায়ী খোকন বলেন, আমরা তরমুজ কোয়াকাটা থেকে কিনে এখানে ১৬ হাজার টাকা থেকে ৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত শতক হিসেবে বিক্রি করি । তিনি অবশ্য কেনা দাম বলতে রাজি হননি ।
এ ব্যাপার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ বলেন ,গত বছরও তরমুজ বিক্রি নিয়ে সমস্যা হয়েছিল । আমরা অভিযান করে একটা নিয়ম করে দিয়েছিলাম । চলমি মৌসুমেও দেখবো । তিনি জানান,যদি ব্যবসায়িকরা পিস ধরে কিনে তাহলে তাদের পিস ধরে বিক্রি করতে হবে আর যদি কেজিতে কিনে তাহলে কেজিতে বিক্রি করবে।