চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীর আত্মহত্যায় স্বামী গ্রেফতার

চুয়াডাঙ্গার আকন্দবাড়িয়া গ্রামে স্ত্রী আত্মহত্যার ঘটনায় স্বামী আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্ত্রীর আত্মহত্যার  ২০ দিনের মাথায় গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে তাকে আকন্দবাড়িয়ার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। আত্মহত্যার প্ররোচণা মামলায় আজ তাকে আদালতে সোপর্দ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে দর্শনা থানা পুলিশ।

 

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের আকন্দবাড়ীয়া গ্রামের ঈদগাপাড়ার আব্দুর রহমানের স্ত্রী যুথি খাতুন (২৫) নামের এক গৃহবধূ গত ১৫ মার্চ গভীর রাতে পরিবারের সকলের অগোচরে নিজঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন। তবে ঠিক কি কারণে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে ধুম্র জালের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর দর্শনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে তাকে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।

 

তবে স্থানীয়রা জানান, রহমানের দুই স্ত্রী। যুথি খাতুন ১মপক্ষ। তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তাকে ডিভোর্স দিয়ে আরেকটি বিয়ে করেন তার স্বামী। কিন্তু পারিবারিক কলহের কারনে ২য় স্ত্রীও চলে যায়। তবে হত্যা কি আত্মহত্যা সেটি রহস্যজনক।

 

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানাগেছে, আকন্দবাড়িয়া ঈদগা পাড়ার দেলবার ফকিরের ছেলে সেলুন ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান পরকীয়া প্রেমিকা প্রিয়ার সাথে প্রায় বছর খানেক পূর্বে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে স্বামী আব্দুর রহমানের পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়।

 

এ নিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত শারিরিক নির্যাতন করতো স্বামী আব্দুর রহমান। এরই এক পর্যায় নির্যাতন সইতে না পেরে যুথি স্বামী গৃহ ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে যায়। দীর্ঘদিন প্রথম স্ত্রী জুথি পিতার বাড়ি থাকার পর দ্বিতীয় স্ত্রী প্রিয়াকে তালাক দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে ঘটনার ১৫ দিন পূর্বে স্বামী আব্দুর রহমান তার প্রথম স্ত্রী যুথি খাতুনকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়িতে নেয়ার পর আবার শুরু হয় নিরব নির্যাতন।

 

এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ মার্চ রাতে রহমান তার দ্বিতীয় স্ত্রী পিয়াকে তার বাড়িতে নিয়ে যায় এবং প্রথম স্ত্রী যুথি খাতুনকে বাহিরে রেখে তার প্রথম পক্ষের একমাত্র ছেলে আপনকে (৭) সাথে নিয়ে ঘরের মধ্যে দ্বিতীয় স্ত্রীসহ রাত্রিযাপন করে। তাদের এহেন কর্মকান্ডে এলাকাবাসীর মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরদিন সকালে তার ঝুলন্ত লাশ মৃত অবস্থায় দেখতে পায় এলাকাবাসী।

 

এবিষয়ে দর্শনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। ঘটনার ২০ দিনের মাথায় গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে স্ত্রী হত্যার অভিযুক্ত ঘাতক রহমানকে গ্রেফতার করেছে দর্শনা থানা পুলিশ।

 

দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ এএইচএম লুৎফুল কবীর বলেন, আত্মহত্যা প্ররোচণার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আত্মহত্যা প্ররোচণায় ৩০৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তবে ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে এলে বোঝা যাবে মৃত্যুর মূল রহস্য।