দর্শনায় ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা পরিচালক গ্রেফতার

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদরাসার তত্ত্বাবধায়ককে (মোহতামিম) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে দর্শনা থানা পুলিশ স্থানীয় জনতা ধোলাই দিয়ে তাকে পুলিশে দেয়। ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে দর্শনার মাছুমা জান্নাত মহিলা মাদরাসায়। গ্রেফতারকৃত তত্ত্বাবধায়ক মো. গোলাম কিবরিয়া (৫৪) কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার কুচিয়া মোড় গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তিনি ওই মাদরাসায় কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বৃহস্পতিবার সকালে দর্শনা থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর গোলামকে কিবরিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার দেখায়। এ ঘটনার পর সব ছাত্রীকে তাদের পরিবার মাদরাসা থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। বিক্ষুব্ধ জনতা মাদরাসায় ঝুলিয়ে দিয়েছে তালা। বিষয়টি নিয়ে দর্শনা এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

 

পুলিশ ও এলাকাসূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে দর্শনা হল্টস্টেশন সংলগ্ন তেতুলতলা এলাকায় ভাড়া বাড়িতে মাছুমা জান্নাত মহিলা মাদরাসা গড়ে তোলা হয়। তৎকালীন দর্শনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুফতি গোলাম কিবরিয়া ওই মাদরাসার প্রধানের দায়িত্ব নেন। ওই সময় নানা অভিযোগ ও বিতর্কে জড়িয়ে দর্শনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমামতি ছাড়তে হয় তাকে। মাদরাসা পরিচালনার ক্ষেত্রেও গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে উঠতে থাকে বিভিন্ন অভিযোগ। বছর দুয়েক আগে ওই মাদরাসায় নির্যাতনের কারণে ছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে পরিচালক মাওলানা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে। ওই সময় অভিযোগ উঠলেও ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে যায়।

এবার তৃতীয় শ্রেণির শিশুছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে। ধর্ষণের কথা অকপটে স্বীকারও করেছেন তিনি। ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া ভয়ভীতি দেখিয়ে স্টেশন সংলগ্ন ভাড়া বাড়িতে নিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। কয়েকদিন আগে সহপাঠীদের কাছে ধর্ষণের ঘটনা ফাঁস করে দিলে শুরু হয় কানাঘোষা।

 

এক পর্যায়ে সহপাঠীদের মাধ্যমে ধর্ষণের বিষয়টি জানতে পারে ছাত্রীর পরিবার। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে পরিবারের ক্ষুব্ধ সদস্যরা মাদরাসায় খোঁজ করে অভিযুক্ত মাওলানা গোলাম কিবরিয়াকে। তাকে মাদরাসায় না পেয়ে তার ভাড়া বাড়িতে গিয়ে এ বিষয়ে কৈফিয়ত চাইলে শুরু হয় বাগবিত-া।

 

প্রশ্নের জবাবে অভিযুক্ত ধর্ষক গোলাম কিবরিয়া ধর্ষণের কথা অকপটে স্বীকার করে বলেন ‘শয়তানের ধোঁকায় পড়ে এ ভুল কাজ করে ফেলেছি।’ এ সময় উত্তেজিত জনতা গোলাম কিবরিয়াকে উত্তমমধ্যম দেয়। খবর পেয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ এএইচএম লুৎফুল কবীর, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আমানুল্লাাহ আমান, থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আহমেদ আলী বিশ্বাস সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেসামাল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

 

জনতার হাতে আটককৃত মাওলানা গোলাম কিবরিয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। খবর পেয়ে দুপুরের মধ্যে মাদরাসার প্রায় ২শ’ অভিভাবক হাজির হয় এবং তাদের মেয়েদের মাদরাসা থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় উত্তেজিত জনতা মাদরাসায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে গতকালই গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় শিশু ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় দুপুর ২টার দিকে পুলিশ গ্রেফতারকৃত গোলাম কিবরিয়াকে আদালতে সোপর্দ করে। আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।

 

ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গতকালই ওই ছাত্রীকে নেয়া হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। চিকিৎসক না থাকায় তাকে রাখা হয়েছে ভিকটিম সেফ হোমে। আজ শুক্রবার তার ডাক্তারি পরীক্ষা হওয়ার কথা।

 

দায়ের করা মামলার বরাত দিয়ে দর্শনা থানার ওসি লুৎফুল কবীর বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিশু (১০) মাদরাসার আবাসিক ছাত্রী ছিলো। শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া সম্প্রতি ওই ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্তত দুবার ধর্ষণ করেছেন। ধর্ষণের পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ঘটনাটি সে তার মাকে জানালে তার পরিবার আইনি পদক্ষেপ নেয়।’ ওসি আরও বলেন, ‘ভুক্তভোগী ছাত্রীর পাশাপাশি আবাসিক অন্য ছাত্রীদের কাছ থেকেও গোলাম কিবরিয়ার বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’