ফেসবুকে নারী সেজে প্রেম, মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সামিয়া জাহান নামের একজন নারী সেজে মাদরাসা শিক্ষকের সঙ্গে প্রেম করছিলেন এক যুবক। একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর কথা বলে মো. কাওসার মিয়া (৩৪) নামে মাদরাসা শিক্ষককে ডেকে নিয়ে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকায় হাত-পা বেঁধে ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় শামসুল ইসলাম (২৮) নামে ঘাতককে গ্রেপ্তার করেছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ।তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দাদনচক মিয়াপাড়ার নজরুল ইসলামের ছেলে।

 

প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর কথা বলে ওই শিক্ষককে ডেকে এনে মুক্তিপণ আদায় করতে না পেরে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘাতক।

শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে গোয়াইনঘাট থানায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এসব তথ্য জানায় সিলেট জেলা পুলিশ।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শাহরিয়ার বিন সালেহ, গোয়াইনঘাট সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহ, গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল ইসলাম ও পরিদর্শক (তদন্ত) ওমর ফারুক মোড়ল।

 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘সামিয়া জাহান পরিচয়ধারী যুবক শামসুল ইসলামের আমন্ত্রণে গত বৃহস্পতিবার কাউসার মিয়া জাফলং বেড়াতে আসেন। শামসুলের কথামতো কাউসার জাফলংয়ে মেঘালয় নামের একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। সেখানে গিয়ে বুঝতে পারেন, সামিয়া জাহান আসলে একজন পুরুষ। তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

 

বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি সেখান থেকে চলে আসার চেষ্টা করলে কাউসারের বেশ কিছু কম্পিউটারে সম্পাদনা করা ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন শামসুল। সেই সঙ্গে নিজেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য (সেনাবাহিনীর) হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে ভয় দেখান। মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করলে কাউসার দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়।

 

পরে কাউসারের হাত-পা বেঁধে জাফলং জিরো পয়েন্টের টিলা সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শামসুলকে পরবর্তী সময়ে আটক করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, শামসুল ইসলামের কাছ থেকে একটি নকল পিস্তল ও আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর স্টিকারযুক্ত চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বিভিন্ন অপরাধ ও প্রতারণামূলক কাজে জড়িত। যার কারণে তিনি পরিবার থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। তিনি নিজেকে বিভিন্ন সময়ে ফ্রি ল্যান্সার ও আইটি বিশেষজ্ঞ এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বলে পরিচয় দিতেন।

 

গত ছয় থেকে সাত মাস ধরে সামিয়া জাহান পরিচয় দিয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে নারী সেজে মাদরাসা শিক্ষক কাউসারের সঙ্গে প্রেমের ফাঁদ পেতেছিলেন। মূলত ভুয়া ফেসবুক আইডির নারী সামিয়া জাহানের আমন্ত্রণেই জাফলংয়ে গিয়েছিলেন কাউসার মিয়া। এটিই কাল হয়েছিল কাউসারের।

 

এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল ইসলাম।