মোংলায় নির্যাতনের শিকার পরিবারকে হাত পা ভেঙ্গে ব্রিজের নিচে লাশ ফেলে দেবার হুমকি

দুই ভাইকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার মামলায় জামিনে বের হয়ে ইউপি মেম্বার সুলতানসহ তার সহযোগিদের হামলা, গুম ও হত্যার আতংকে রয়েছেন মোংলার একটি সংখ্যালঘু পরিবার। নির্যাতনের শিকার দুই ভাই বিনোদ ও বিপ্লবের বাবাকে হাঁত পা ভেঙ্গে স্থানীয় মনপুরা ব্রিজের নিচে লাশ ফেলে দিবে সুলতানমেম্বার। এমন অভিযোগ করে সুভাষ চন্দ্র সরকার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

 

বলেন,এতবড় দূস্কৃতি লোক বাংলাদেশে থাকতে পারবে না, এই দেশ থেকে যখন পাকিস্তানকে হঠাতে পেরেছি, সুলতান মেম্বারের মত দু’ একটা রাজাকার এই দেশ থেকে হটাতে পারবো।

সুলাতান মেম্বারের বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পাঁচ’শ সংখ্যালঘু পরিবারসহ প্রায় হাজারখানেক লোকজন বিক্ষোভ করেন। এসময় বিক্ষোভকারীর মধ্যে অশোক মন্ডল, আনন্দ মন্ডল, বিনোদ সরকার, সুভাষ চন্দ্র সরকার, জোসেভ হালদার, বাপ্পা হালদার, বিবেক হালদার, মিনতি রায়, স্বপ্না মন্ডল, গিতা সরকার, পারুল ঘোষাল ও বিপাসা সরকার বলেন, চাঁদপাই ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর সুলতান হাওলাদার একজন ভূমি দস্যু, মামলাবাজ, সন্ত্রাসী বাহিনীর গডফাদার ও মোংলা বন্দরের একজন চিহ্নিত চোরাকারবারি। এলাকায় তার রয়েছে বিশাল একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। এই বাহিনী দিয়ে শুধু এলাকার সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। বছর খানেক ধরে কালিকাবাড়িতে একটি চিংড়ি ঘের দখল করেও রেখেছে এই সুলতান মেম্বার।

 

গত শনিবার (১৬ এপ্রিল) ওই মেম্বারের টর্চার সেলে উত্তর কাইনমারি এলাকার সুভাষ চন্দ্র সরকারের দুই ছেলে বিনোদ ও বিপ্লব সরকারকে নির্যাতন করা হয়।

 

পরে এ ঘটনায় মেম্বার সুলতান ও তার ছেলে জাকিরসহ ১৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন নির্যাতিতদের বড় ভাই কুমুদ সরকার। এর পরদিন সুলতান মেম্বারসহ একাধিক আসামি র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন। কিন্তু গ্রেফতারের একদিন পরই জামিনে
বের হয়ে ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু পরিবারকে গুম ও হামলা মামলার হুমকি দেয় বলে
অভিযোগ করেন বিনোদ, বিপ্লব ও কুমুদের বাবা সুভাষ সরকার। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় চাঁদপাই ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সংখ্যালঘু কয়েক’শ পরিবার মানববন্ধন করেন তারা। পরে তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে মেম্বার সুলতানসহ তার বাহিনীর দৃষ্টান্ত বিচার চান।

 

এব্যাপারে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমলেশ মজুমদার বলেন, “জামিনে বের হয়ে সুলতান মেম্বার ভয় ভীতিসহ নানা ধরনের হুমকি দেওয়ার ঘটনা শুনেছি। এ ব্যাপারে ১০৭ ধারায় সুলতান মেম্বারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।