গাংনী; হেলালের নিয়তী!

৩২ বছর বয়সী হেলাল উদ্দীন। পেশায় কৃষক। পাশাপাশি ব্যবসা বাণিজ্যেও সম্পৃক্ত। পিতামাতার একমাত্র ছেলে। সম্পদের কমতি নেই। সংসারে সুখও ছিল। কিন্তু বিপত্তি ঘটেছে শারীরিক গড়নে। চেহারা বেশ। একজন সাদাসিধে মানুষ।তবে বদনখানি মলিন থাকে সব সময়। কারণ তার ঘরে স্ত্রী থাকে না।

 

গেল তিন বছরে তিন তিনটে বিয়ে করেছেন তিনি। তবুও দাম্পত্য জীবনে সুখের দেখা মেলেনি। তিনটে বিয়ে করার পরেও তিনি স্ত্রীহীন। সন্তান-সন্ততিও নেই।

 

যতদূর জানা যায়, হেলাল উদ্দীন প্রথম বিয়ে করেন গাংনী উপজেলার বাদিয়াপাড়া গ্রামে। মাস চারেক সংসার করার পর স্ত্রী বাপের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে আর ফেরত আসেনি।স্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন স্বামীর শারীরিক গঠন তার অপছন্দ। তাই সংসার করা সম্ভভ নয়।শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের করুণ সুর বেজে ওঠে হেলালের জীবনে।

 

পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিয়ে করেন গাংনী উপজেলার মহাম্মদপুর গ্রামে। প্রায় দুই মাস দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত হলে স্ত্রীর পরকিয়ার বিষয়টি নজরে আসে হেলাল উদ্দীনের। তবুও তিনি সংসার করেতে চেয়েছেন। কিন্তু অনেক চেষ্টা করে স্ত্রীকে ফেরাতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত আবারও দাম্পত্যে বিরহ। দ্বিতীয় স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়।

 

দুই দুইবার সংসার পাতার তিক্ত অভিজ্ঞতায় বিয়ে থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন হেলাল উদ্দীন। বছর খানেক সংসার বিহীন চুপিসারেই ছিলেন তিনি। তবে হাল ছাড়েনি পরিবার ও স্থানীয়রা। স্থানীয়রা হেলাল উদ্দীনের কোন দোষ পাইনি। বিষয়টি নিতান্তই তার কপালের লিখন বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

 

দ্বিতীয় বিবাহ বিচ্ছেদের সময় হেলালের কোন দোষ না থাকায় মহাম্মদপুর গ্রামের কিছু লোক তাকে এই গ্রামের জামাই বানানোর জেদ করে। তারই জেরে দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রতিবেশী কৃষক সোহরাব উদ্দীনের মেয়ের সাথে তার তৃতীয় বিয়ে হয়। তবে এখানেও সংসার সুখ মেলেনি। ফুল শয্যার বদলে হেলালের ঠায় হয়েছে কারাগারে।

 

কারণ তার বিয়ের কনে একজন শিশু। বয়স মাত্র ১২ বছর। সে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। বরের বয়স ৩২ আর কনের বয়স ১২। এটি শূধু বাল্য বিয়েই নয় অসময় বিয়েও বটে !

 

এমন খবরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের হানা। তৃতীয়বার বিয়ের পিড়িতে বসা হেলাল উদ্দীন ও তার নতুন শ্বশুর সোহরাব উদ্দীনের সাত দিন করে কারাদন্ডাদেশ, একই সাথে বরের ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মৌসুমি খানম। রোববার বিকেলে এ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়।

 

সাত দিন কারাবাসের পর হেলাল উদ্দীন ও তার তৃতীয় স্ত্রী সোহাগ রাত্রির স্বপ্ন দেখছেন।তবে বাল্য বিয়ে নিরোধ আইনে তা সম্ভব নয়। তাহলে কি হেলাল উদ্দীন চীর কুমার রয়ে যাবেন ? না কি আরও একবার বিয়ের পিড়িতে বসবেন।তা দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে।

 

হেলাল উদ্দীন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের বাঙ্গালপাড়ার এনামুল হকের ছেলে।