দুই প্রেমিকাকে বিয়ে,২২ দিনের মাথায় ছেড়ে গেলেন এক বউ

রোহিনীকে ছেড়ে গেলেন দ্বিতীয় স্ত্রী মমতা (ডানে)।

দুই প্রেমিকাকে বিয়ে করে একসঙ্গে ঘরে তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রোহিনী চন্দ্র বর্মণ। কিন্তু ২৫ বছরের সেই যুবক শেষ পর্যন্ত দুই স্ত্রীকে নিয়ে সংসার সাজাতে ব্যর্থ হলেন। বিয়ের মাত্র ২২ দিনের মধ্যেই তাকে ছেড়ে গেছেন দ্বিতীয় স্ত্রী মমতা রানী।

শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মমতা রানীর ভাই পলাশ চন্দ্র রায়।

 

পলাশ জানান, গত বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের সম্মতিতে এফিডেভিট করে এই বিবাহবিচ্ছেদ অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে গত ২০ এপ্রিল রাতে উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীদ্বার এলাকার যামিনী চন্দ্র বর্মণের ছেলে রোহিনী তার বাড়িতে ইতি ও মমতাকে পাশাপাশি বসিয়ে সিথিতে সিঁদুর লাগিয়েছিলেন। পরে একসঙ্গেই দুই বউকে ঘরে তোলেন তিনি।

 

এদিকে বিয়ের মাত্র ২২ দিনের মাথায় বিবাহবিচ্ছেদ কেন হলো- তার কোনো কারণ জানা যায়নি। এ বিষয়ে মুখ খোলেননি মমতা রানী। কথা বলা সম্ভব হয়নি রোহিনীর সঙ্গেও।

 

বিচ্ছেদের ঘটনায় মমতার পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন মমতার ভাই পলাশ।পলাশ বলেন, ‘আর বাড়াবাড়ি করতে চাই না। বোনের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই এই সিদ্ধান্ত।’

এ বিষয়ে রোহিনীর বাবা যামিনী চন্দ্র বলেন, ‘মমতা স্বেচ্ছায় আমার ছেলেকে তালাক দিয়েছে। এতে আমরা অমত করিনি।’

 

জানা গেছে, বলরামপুর ইউনিয়নের গাঠিয়াপাড়া এলাকার গিরিশ চন্দ্রের মেয়ে ২০ বছর বয়সী ইতি রানীর সঙ্গে রোহিনীর প্রেমের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একপর্যায়ে তারা মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন দুজনই।

এর মধ্যেই লক্ষ্মীদ্বার গ্রামের টোনো কিশোরের ১৮ বছরের মেয়ে মমতা রানীর সঙ্গেও নতুন করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন রোহিনী। গত ১২ এপ্রিল রাতে মমতার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মমতার পরিবারের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে রোহিনীকে আটক করে। পরদিন ১৩ এপ্রিল তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়।

 

এদিকে রোহিনী বর্মণের বিয়ের খবর শুনে তার বাড়িতে অনশন শুরু করেন ইতি রানী। পরে ২০ এপ্রিল রাতে নিজ বাড়িতে মাথায় সিঁদুর দিয়ে দুই প্রেমিকাকে একসঙ্গে বিয়ে করেন রোহিনী।

 

মমতা রানীর সঙ্গে বিচ্ছেদের বিষয়ে বলরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিচ্ছেদের বিষয়ে এখনও অফিশিয়ালি কোনো তথ্য পাইনি। দুই পক্ষের কেউ কিছু জানায়ওনি। তবে লোকমুখে শুনছি, মেয়েটা নিজেই নাকি ছেলেকে তালাক দিয়েছে।’