দুই বোনকে হাত-মুখ বেঁধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা ফুলবাড়ি গ্রামে দুই বোন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে একজন ১৩ বছরের শিশু ও অপরজনের বয়স ২২ বছর। শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। আহত শিশুটিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে। ধর্ষিত দুইজন একে অপরের খালাতো বোন।

 

হাসপাতাল সূত্রে জনা গেছে, শনিবার দিবাগত রাতে ৫/৭ সদস্যের সংঘবদ্ধ একটি দল বটিয়াঘটা উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে কয়েকজন বাহিরা পাহাড়া দেয় আর অন্যরা ঘরে প্রবেশ করে ১৩ বছরের শিশু ও তার খালাতো বোনকে (২২) ধর্ষণ করে। এর আগে ওই শিশুর খালাতো বোনের একটি বাচ্চাকে তারা পানিতে চুবিয়ে রাখে। ধর্ষণ শেষে বাচ্চাটি উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থা অবনতি হওয়ায় শিশুর চিকিৎসার জন্য খুলনা শিশু হাসপাতালে নিয়ে আসে ধর্ষিত নারী।

 

এ ঘটনায় ভিকটিম পরিবার থানায় মামলা করতে গেলে পথিমধ্যে ফরিদ নামে এক দালালের খপ্পরে পড়ে তারা। তাদের থানায় আসতে বাঁধা দেয় সে।

 

১৩ বছরের শিশুর মা জানান, ধর্ষণের ঘটনা শনিবার মধ্যরাতের। তবে রোববার রাতে মেয়ে দুটি ও শিশুটিকে হাসপাতলে ভর্তি করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পুলিশও যায় সে সময়।

তিনি বলেন, ‘শনিবার বিকেলে আমি বোনের বাড়ি ডুমুরিয়ায় গিয়েছিলাম। আমার স্বামী বাগেরহাটে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। এ সময়ে বাড়িতে ওরা দুই বোন ছিল। মধ্যরাতে ৭ জন আমাদের বাড়িতে যায়। তাদের কয়েকজন বাইরে পাহারায় থাকে আর কয়েকজন ঘরে ঢুকে দুই মেয়েকে হাত ও মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে।

‘ভোররাতে মেয়ে আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। আমরা গিয়ে তাদের মেডিকেলে নিয়ে আসি। ঘটনার সময় বড়মেয়ের সন্তানের গলায় ছুরি ধরা হয়েছিল। পরে তাকে পানিতে ডুবিয়ে রাখে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বড় মেয়ে সেখানে গেছে ছেলে নিয়ে। সেও বেশ অসুস্থ।’

 

বটিয়াঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, ঘটনাটি লোকমুখে শুনেছি। থানায় কেউ অভিযোগ করতে আসেনি। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

 

বটিয়াঘাটা থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুর রহমান বলেন, ধর্ষণের ঘটনাটি জানতে পেরে হাসপাতালে যায়। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।