চুয়াডাঙ্গায় ফেনসিডিল সেবন করে পালাতে গিয়ে কৃষকলীগ নেতার মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদকবিরোধী অভিযানের সময় আটকের ভয়ে জাকারিয়া হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের আকন্দবাড়িয়া গ্রামের মাঝেরপাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটে।

 

নিহত জাকারিয়া আলম চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষক লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ও আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। সর্বশেষ গাংনী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি বড় গাংনী গ্রামের ৫নং ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল হাই মাওলানার ছেলে।

 

চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্র্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আকন্দবাড়িয়া গ্রামের মাঝেরপাড়ায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এ সময় দুই বোতল ফেনসিডিলসহ মাসুরা খাতুন (৪০) নামে এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। সেখান থেকে আমরা চলে আসি। তবে জাকারিয়ার বিষয়ে কিছুই জানি না। আমরা তাদেরকে দেখিনি। তাড়া করা তো দূরের কথা। হতে পারে অভিযানের সময় আটকের ভয়ে পালানোর সময় এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

 

পরিবারের সদস্যরা বলছে, টাকা আদায়ের জন্য তিনজন আকন্দবাড়িয়ায় যাচ্ছিলো তারা। প্রশাসন দেখে আটকের ভয়ে পালানোর সময় তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন যাবত জাকারিয়া হার্টের সমস্যায় ভুগছিলো।

 

স্থানীয়রা বলেন, একটি মোটরসাইকেলে জাকারিয়াসহ তিনজন ছিলেন। আকন্দবাড়িয়া গ্রামের মাঝেরপাড়ার এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজন তাদেরকে গতিরোধ করে। এরমধ্যে একজনকে ধরে তার মোবাইল কেড়ে নিলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয়। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা জাকারিয়া হোসেন পালিয়ে হাফাতে হাফাতে গ্রামের রায়পাড়ার নজরুল ইসলামের বাড়িতে সামনে নিম গাছের নিচে বসে পড়ে। এ সময় স্থানীয় এগিয়ে আসলে জাকারিয়া তার পরিচয় বলেন এবং ঢুকে পানি পান করতে চাই। পরে পানি আনার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন।

 

অভিযোগ রয়েছে, ফেনসিডিল নেশার পর ইয়াবা ট্যাবলেটের জন্য ফয়সালের অপেক্ষা করছিলো তিনজনই। ঠিক সে সময় ফয়সালের বাড়িতে চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযান চালান। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সদস্যদের দেখেই দৌঁড়ে পালান সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাকারিয়া। তার সঙ্গী চুয়াডাঙ্গা মুক্তিপাড়ার আ. লতিফের ছেলে রানা (৪৫) ও কোর্টপাড়ার ইসরাইল হোসেনের ছেলে ইমদাদুল হক বাবু।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান দামুড়হুদা, জীবননগর ও দর্শনা সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মো. মুন্না বিশ্বাস, দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ এএইচএম লুৎফুল কবীর, সেকেন্ড অফিসার আহম্মদ আলী বিশ্বাস। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশ উদ্ধার করে। স্থানীয়দের নিকট তিনি ঘটনার বিস্তারিত শোনেন তারা। কোন অভিযোগ না থাকায় সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে পুলিশ। সন্ধ্যার পর জাকারিয়া হোসেনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি বড় গাংনীতে পৌঁছুলে নেমে আসে শোকের ছায়া। শত শত নারী-পুরুষ জাকারিয়ার মরদেহ এক নজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষকলীগের আহবায়ক আসাদুজ্জামান কবির বলেন, শুনেছি টাকা আদায়ের জন্য আকন্দবাড়িয়া গিয়েছিলেন। এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের অভিযান দেখে ভয়ে পালানোর সময় স্টোক করে তার মৃত্যু হয়। সে আগে থেকে হার্টের রোগী ছিলেন। তিনি আরও বলেন, আজ সোমবার সকাল ৮টার দিকে বড় গাংনী গ্রামের ক্লাবপাড়ায় মরহুমের জানাজার নামাজ শেষে দাফন সম্পন্ন করা হবে।

 

নিহত জাকারিয়া হোসেনের ভাগ্নে শরিফুল ইসলাম  বলেন, গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে টাকা আদায়ের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। বিকেলে জানতে পারি চুয়াডাঙ্গা শহরের দুজনের সঙ্গে আকন্দবাড়িয়া গ্রামে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটেছে।

 

দর্শনা থানার ওসি এএইচএম লুৎফুল কবীর  বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজন অভিযান চালিয়ে দুই বোতল ফেনসিডিলসহ এক নারীকে আটক করে। এই পথ দিয়ে মোটরসাইকেলযোগে জাকারিয়াসহ তিনজন যাচ্ছিলেন। তারা মনে করতে পারে আমাদেরকে আটক করতে পারে এই ভেবে পালানোর সময় জাকারিয়া হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। তবে তাদেরকে কেউ তাড়া করেনি। আবেদনের প্রেক্ষিতে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শরিয়ত উল্লাহ  বলেন, রোববার দুপুরে মাদকসহ এক নারী ব্যবসায়ীকে আটক করি। এছাড়া আমরা আর কাউকে আটক বা তাড়া করেনি। হয়তো অভিযানের সময় আমাদের দেখে ভয় পেয়ে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।