জীবননগর হাসপাতালে রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে দম্ভোক্তি ডাক্তারের

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে যাওয়া এক রোগীর সাথে চরম অবহেলা ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে।

 

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রুবিনা আক্তার ওই রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে তাকে বলেন, ‘যান যান এমপি টগরকে গিয়ে তো বলবেন, যান বলেন গে, বলে আমার কিছু করতে পারলে করেন গে।’

 

পরে অভিযোগের বিষয় জানতে মোবাইলে ফোন করলে ওই  চিকিৎসক উপজেলার একজন সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথেও খারাপ আচারণ করেন। এ ঘটনায় জীবননগর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ অভিযুক্ত ওই চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।

বুধবার (২৫ মে) বিকেলে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

 

জানা যায়, জীবননগর পৌর শহরের হাইস্কুলপাড়ার বাসিন্দা মুন্সী মহাসিন আলী বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বুকে ব্যথা নিয়ে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান। এ সময় সেখানে একজন নারী চিকিৎসক কর্মরত ছিলেন। চিকিৎসককে ব্লাড প্রেসার চেক করার জন্য অনুরোধ করলে ওই চিকিৎসক পাশে বসে থাকা ওষুধ কোম্পানির এক বিক্রয় প্রতিনিধির সাথে গল্প করতে থাকেন।

 

১০ মিনিট পার হয়ে গেলেও চিকিৎসক তাকে না দেখে ওষুধ কোম্পানির ওই বিক্রয় প্রতিনিধির সাথে কথায় ব্যস্ত থাকেন। এর কারণ জিজ্ঞাসা করায় ডা. রুবিনা আক্তার ওই রোগীর সাথে চরম অসদাচরণ করেন।

 

ভুক্তভোগী রোগী মহাসিন আলী বলেন, বুকের ব্যথা নিয়ে দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর আবারও ব্লাড প্রেসার মাপার জন্য অনুরোধ করলে চিকিৎসক বলেন, ব্লাড প্রেসার মাপার কাজ আমার না। যিনি মাপবেন তিনি বাইরে গেছেন। তিনি এসে মাপবেন।

 

এ কথায় আমি চিকিৎসকের নাম জিজ্ঞাসা করলে তিনি আচমকা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বলতে থাকেন, ‘নাম শুনে কি করবি। এমপি টগরকে তো বলবি, বলগে যা। বলে যদি কিছু করতে পারিস করগে যা। এরপর আমি হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এসে স্থানীয় প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিই।’

বিষয়টি জানার জন্য একজন সিনিয়র সাংবাদিক মুঠোফোনে ওই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বললে তিনি সাংবাদিকের সাথেও খারাপ আচারণ করেন।

 

 

এ বিষয়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রুবিনা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, ওই সময় মানসিক অবস্থা খারাপ থাকায় আমি সাংবাদিকের সাথে খারাপ আচারণ করেছি। তিনি আরও বলেন, রোগী তাড়াহুড়ো করায় তাকে হাসপাতালের সহকারী মেডিকেল অফিসার আসা পর্যন্ত বসতে বলেছিলাম।

 

জীবননগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজি সামসুর রহমান চঞ্চল বলেন, হাসপাতালে আসা রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য যাদের দায়িত্ব রয়েছে তাদের কাছ থেকে এমন আচারণ আশা করা যায় না। তিনি আরও বলেন, সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা সাংবাদিকের সাথে এমন অসদাচারণ কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এ ঘটনায় আমি ওই চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

 

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। আমি ঢাকাতে রয়েছি। ফিরে এসে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।