গাংনীতে ইজিপিপি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন এলাকাবাসি

মেহেরপুরের গাংনীতে ইজিপিপি প্রকল্পের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। এতে কর্মহীন শ্রমিকেরা যেমন কাজ করতে পারছেন অন্যদিকে এর সুবিধা ভোগ করছেন জনসাধারণ। পুকুর, খাল খনন- পুন:খনন, বাঁধ নির্মাণ- পুন:নির্মাণ (পানি উন্নয়ন বোর্ডকর্তৃক সুপারিশকৃত), রাস্তা,বাঁধ নির্মাণ পুন:নির্মাণ, গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন (রাস্তা, ব্রীজ), সেচ কাজের জন্য ও জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য খাল- নালা খনন, পুন: খনন কাজকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

 

জানা গেছে, ইজিপিপি প্রকল্পটি সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। বছরের কর্মহীন দুটি মৌসুমে অতিদরিদ্র গ্রামীণ বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে ইউপি। সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য হন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি। আর ইউপি মেম্বরগণ প্রকল্প সভাপতি। ২০২১-২২ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ৪৫ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। একজন শ্রমিক মাটি কাটার কাজের জন্য প্রতিদিন ৪০০ টাকা করে পাবেন।

 

কাথুলী ইউনিয়নের ধলা গ্রামের জাহাঙ্গীর জানান, তাদের গ্রামের রাস্তাটিতে চলাচল করা সম্ভব ছিল না। ইজিপিপি প্রকল্পের শ্রমিকরা রাস্তায় মাটি ভরাটের কারণে এখন ভালভাবে চলাচল করতে পারছি। একই কথা জানালেন তেুঁলবাড়িয়া ইউপির ভরাট গ্রামের সবুজ।

 

প্রকল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, তারা কর্মহীন ছিলেন। এ প্রকল্পে কাজ করতে পারায় পরিবারে স্বচ্ছলতা এসেছে। কয়েকজন স্বামী পরিত্যক্তা ও বিধবা কাজ করছেন এ প্রকল্পে। তারা জানান, স্বামী না থাকায় সংসারে এক রকম বোঝা হয়ে দাড়িয়েছিলেন তারা। কাজের সুযোগ পেয়ে তারা স্বচ্ছলতার মুখ দেখছেন।
বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, প্রকল্প শুরুর আগে স্থানীয় জনগন ও ওয়ার্ড মেম্বরদের নিয়ে বৈঠক করে কোথায় কি কাজ করা যায় এবং শ্রমিক নির্বাচন করে তালিকা প্রস্তুত করা হয়। পরে সে অনুযায়ি কাজ করা হয়। জনগনের সুবিধা হয় এমন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়।

 

গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ইইজপি প্রকল্পে নয়টি ইউনিয়নে মোট দুই হাজার ৬৩১জন শ্রমিক কাজ করছে। একজন শ্রমিক অন্ততঃ ৩৫ ঘনফুট মাটি কাটবে। নিয়মিত তদারকিও করা হচ্ছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিরঞ্জণ চক্রবর্তী জানান, প্রকল্পের তালিকা ও শ্রমিকদেরকে জবকার্ড দেয়া হয়েছে। শ্রমিকরা কাজ করবেন এবং তার নগদ হিসাব নম্বরে টাকা জমা হবে। প্রকল্পের কাজে কোন অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়নি। যদি কোথায় কোন অনিয়ম পাওয়া যায় তাহলে তাৎক্ষনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।