বাঘারপাড়ায় কৃষাণ খুন : চুয়াডাঙ্গার যুবক ও কবিরাজ আটক

বাঘারপাড়ার কৃষাণ নকিম উদ্দিন খুন মামলায় চুয়াডাঙ্গার লিটন মালিথা ও কবিরাজ আব্দুল বারেককে আটক করেছে যশোর জেলা পুলিশ পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

 

চির যৌবন ধরে রাখতে যশোরের বাঘারপাড়ার কৃষাণ নকিম উদ্দিনকে খুন করা হয়েছে। কবিরাজের দেয়া তদবিরের ভিত্তিতেই চুয়াডাঙ্গার লিটন মালিথা নৃশংসভাবে এ হত্যাকান্ডটি ঘটায়। পুলিশ কবিরাজ আব্দুল বারেককেও আটক করেছে।

 

আটককৃতরা হচ্ছেন- আব্দুল বারেক চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মোজাম্মেল হকের ছেলে। সে পেশায় কবিরাজ। আটক অপর ব্যক্তি লিটন মালিতা চুয়াডাঙ্গা সদর থানার মোহাম্মদ জুমা গ্রামের মো: হানিফ মালিতার ছেলে।

 

জানা গেছে, কবিরাজ বারিকের কথায় হারানো যৌবন ফিরে পেতে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ নিয়ে  যশোরের বাঘারপাড়ায় কৃষি শ্রমিক নকিম উদ্দীনকে হত্যা করে লিটন মালিতা। হত্যার পরে  ঘাতক লিটন  নিহতের পুরুষাঙ্গ, অন্ডকোষ ও একটি চোখ নিয়ে যায়।

 

যশোর ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল দুইদিনের অভিযানে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে।
গত মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা থেকে আব্দুল বারেক (৬২) ও বুধবার মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের চড় বাইলজুরী এলাকা থেকে   লিটন মালিতা (৪০) কে আটক করা হয়। এ সময় গ্রেফতারকৃত লিটন মালিতার কাছ থেকে একটি পুরুষাঙ্গ, অন্ডকোষ ও একটি চোখ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

উল্লেখ্য গত ২৬ মে উপজেলার ছাতিয়ানতলা বাজার থেকে ধান কাটার জন্য কৃষাণ হিসেবে নকিম উদ্দীনসহ তিনজনকে বাড়িতে নিয়ে যান পাইকপাড়া গ্রামের  মৃত ইবাদ মোল্যার ছেলে বেনজির আহম্মেদ (৪২)। গত রবিবার (২৯ মে) বিকালে পারিশ্রমিকের টাকা বুঝে নিয়ে একজন চলে যায়। বাকি আটক লিটন মালিতা ও নিহত নকিম উদ্দীন রাতে খাবার খেয়ে এক কক্ষে ঘুমিয়ে থাকে। পরে বাড়ির মালিক বেনজির আহম্মেদ সোমবার সকাল ৬টায় কৃষাণদের ডাক দিলে বাইরে থেকে দরজা খোলা দেখতে পান। দরজা খোলা দেখে তিনি ভেতরে যেয়ে দেখেন জখম অবস্থায় কৃষাণ নকিম উদ্দীনের লাশ খাটের উপর পড়ে আছে।

 

জানা গেছে,স্থানীয় কবিরাজ আব্দুল বারেকের শরণাপন্ন হয় লিটন।  কবিরাজ লিটনকে যে কোনো একটি পুরুষাঙ্গ, অন্ডকোষ ও একটি চোখ উপড়ে নিয়ে আসলে সে হারানো যৌবন ফিরে পাবে বলে জানান।  সেই থেকে লিটন বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সুযোগ খুঁজতে থাকে।  এরই ধারাবাহিকতায় ধান কাটার শ্রমিক সেজে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে কাজ নেয়।  সুযোগ বুঝে কবিরাজের দেয়া মহাওষুধের উপকরণ যোগাড় করতে নকিম উদ্দীন নামের এই শ্রমিককে খুন করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে চলে যায় মানিকগঞ্জ।

 

ডিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে বাঘারপাড়া থানায় ৩১ মে মঙ্গলবার একটি মামলা হয়। যার নম্বর ১৮/ ধারা ৩০২ ও ২০১/ ৩৪ দণ্ডবিধি। আলোচিত এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে মাঠে নামে যশোর ডিবি।

 

ঘটনার বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হয় ঘিওর থানার ওসি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লবের সাথে। তিনি জানান, লিটন মালিতা গত মঙ্গলবার মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ধান কাটার শ্রমিক সেজে আসেন।  সেই শ্রমিকের হাট থেকে ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের চড় বাইলজুরী গ্রামের জনৈক কৃষক জিতু  তাকে ধান কাটার কাজে বাড়িতে নিয়ে আসেন। অবস্থান শনাক্ত করে বুধবার দুপুরে মানিকগঞ্জর ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের চড় বাইলজুরী এলাকা থেকে ধান কাটার কাজরত অবস্থায় ঘিওর থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে আটক করে যশোর ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল।

 

হারানো যৌবন ফিরে পেতে কবিরাজের নির্দেশে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যম ব্যবহার করে  মঙ্গলবার ও বুধবার অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে যশোর ডিবি পুলিশ। এ সময় আটক লিটন মালিতার কাছ থেকে খুন হওয়া ব্যক্তির পুরষাঙ্গ, অন্ডকোষ ও একটি চোখ উদ্ধার করা হয়।