মনিরামপুরে শিক্ষক কর্তৃক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

যশোরের মনিরামপুরে পঞ্চম শ্রেনীর এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ওই স্কুল ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে একই উপজেলার দেলুয়াবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জয়পুর গ্রামের উজির আলীর ছেলে ইয়াকুব আলীকে(৪০) আসামী করে মনিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এদিকে স্থানীয় জনতারা শিক্ষক ইয়াকুব আলীকে আটক করে পুলিশে সোপার্দ করেছে।

 

 

ভুক্তভোগী ওই স্কুল ছাত্রীর পিতা দেলুয়াবাটি গ্রামের মতিয়ার শেখের ছেলে আলম(৩৫) তার লিখিত অভিযোগে বলেন, আমার মেয়ে দেলুয়াবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী। গত ৭ই জুন সকাল সাড়ে এগারোটার সময় আমার মেয়ে স্কুলে না যেয়ে বাড়ীতে ঘোরাফেরা করতে থাকে। তখন আমার স্ত্রী রেশমা খাতুন মেয়েকে স্কুলে যেতে বললে সে স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করে।

 

আমার স্ত্রী মেয়েকে স্কুলে যাওয়ার জন্য বকাবকি করলে আমার মেয়ে কান্না করতে করতে বলে যে, স্কুলের শিক্ষক আসামী ইয়াকুব আলী তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে। তখন আমার স্ত্রী মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে আমার মেয়ে জানায় গত ৬ই জুন বেলা দুইটার দিকে আসামী ইয়াকুব আলী ৫ম শ্রেণীতে ক্লাস নিতে আসে এবং ক্লাস চলাকালীন সময়ে আমার মেয়েকে কাছে ডেকে নিয়ে তার অসৎ উদ্দেশ্য চরিত্রার্থের জন্য আমার মেয়ের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়।

 

তখন আমার মেয়ে চিৎকার দিতে গেলে মারপিট করার ভয় দেখিয়ে চুপ থাকতে বলে এবং ঘটনার বিষয়ে বাড়ীতে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখায়। এছাড়া আমার মেয়ে আরো জানায় যে, ৫ম শ্রেণীর ক্লাস শেষে আসামী ইয়াকুব আলী ৩য় শ্রেণীর আরেক ছাত্রীকে একই ভাবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানী করে।

 

আমি বাড়ীতে আসলে আমার স্ত্রী ঘটনার বিষয়ে আমাকে জানাইলে আমি হুমাইরা খাতুনের পিতামাতা সহ স্থানীয় লোকজনদেরকে এ ঘটনার বিষয়ে জানাই।

 

তখন স্থানীয় লোকজন দেলুয়াবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে আসামী ইয়াকুব আলীকে ডেকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় উত্তেজিত জনতা আসামী ইয়াকুব আলীকে আটক করে রাখে এবং মণিরামপুর থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। মণিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আসামী ইয়াকুব আলীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।