ভারতে পাচার সোনা খোয়া যাওয়ায় দুই পাচারকারী অপহরণ,বেনাপোল থেকে উদ্ধার

ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে পাঠানো সোনা পাচারকারীর (বহনকারীর) কাছ থেকে খোয়া যাওয়ায় দুই পাচারকারী বা বহনকারীকে অপহরণ করেন সোনা চোরাকারবারির গডফাদাররা।

 

এরপর ভিকটিমের পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হলে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা পাঁচ দিন পর দুই অপহরণকারীসহ ভিকটিমকে বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে। বুধবার বিকালে যশোর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আটক অপহরণকারীরা হলেন, যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার ছোট কাবিল পুর গ্রামের মহাসিন আলী মাস্টারের ছেলে আসম মোজাফ্ফর হাসান @ আবু সাঈদ (৪৯) ও যশোর শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে রবিউল হোসেন @ লিটন (৪৩)। এসময়ে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা অপহরণকারীদের কাছ থেকে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও ৪টি মোবাইলফোন জব্দ করেন।

 

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত ২ই জুন ২০২২ ইংরেজি তারিখে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে চৌগাছা কাবিলপুর বাজারের আবু সাঈদের কীটনাশকের দোকানের সামনে থেকে আবু সাঈদ দুটি কীটনাশকের প্যাকেটে করে তিন কেজি সোনা ভারতে পাচারের জন্য দেয় চৌগাছা শাহজাদপুর গ্রামের আলমের ছেলে শাহিনের নিকটে। এই সোনা নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দিলে তারা পাবেন ১ হাজার টাকা। একপর্যায়ে শাহিন তিন কেজি সোনা গ্রহণ করার পর যশোর বাঘারপাড়ার বেতালপাড়া এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে (নিজের শ্যালক) ইয়ামিন (১৯)কে ও তার ভাই হুরায়রা (১৪) মাধ্যমে প্যাকেট ২টি সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠানোর জন্য শাহাজাদপুর মাঠে পাঠান।

 

মাঠে উঠলে এপাচি লাল রংয়ের একটি মটরসাইকেলযোগে দুই জন্য অজ্ঞাত লোক ইয়ামিনকে ভারতের অমল-রাজুর লোক পরিচয় দিয়ে কৌশলে দেড় কেজি সোনার  ১টি প্যাকেট নিয়ে চলে যায়। আরেকটি প্যাকেট হুরায়রা ভয়ে মাঠে ফেলে দেয়। এর পর সোনা খোয়া যাওয়ার বিষয়টি সোনার প্রধান চোরাকারবারী বা মালিক শার্শার মন্টু ও লিটনকে জানালা তারা শাহীন ও ইয়ামিন কে অপহরণের কৌশল তৈরি করেন।

 

পরের দিন ৩ই জুন ২০২২ ইংরেজি তারিখে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে চৌগাছা কাবিলপুর বাজারে আবু সাঈদের কীটনাশকের দোকানের সামনে আবু সাঈদ নিজে ও মন্টু, লিটনকে নিয়ে শাহীন ও ইয়ামিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসেন । মন্টু লিটন গং ফোন দিয়ে আরো ৪/৫ জনকে ডেকে নিয়ে শাহীন ও ইয়ামিনকে অপহরণ করে নিয়ে বেনাপোল একটি অজ্ঞাত বাড়ীতে আটকে রেখে টর্চার করতে থাকে। সেখানে থেকে পরের দিন অর্থাৎ ৪ই জুন ইয়ামিন কৌশলে পালিয়ে আসলেও শাহীনকে তারা ৫ দিন যাবৎ আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকে।

 

 

একপর্যায়ে ভুক্তভোগী শাহিনের পিতা ৭ই জুন চৌগাছা থানার একটা অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলাটির স্পর্শকতার হওয়ায় যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার মামলাটির তদন্তভার দেন যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপরে। একপর্যায়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রুপণ কুমার সরকার মামলাটির তদন্তভার দেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের চৌকস অফিসার এসআই মফিজুল ইসলামের নিকটে। তদন্ত কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারী ও ভিকটিমের অবস্থা শনাক্ত করেন।

 

 

একপর্যায়ে গতকাল বিকাল থেকে বুধবার সকাল ৭ টা পর্যন্ত গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা চৌগাছার কাবিলপুর ও যশোর ঝিকরগাছা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই অপহরণকারী কে আটক করতে সক্ষম হন। অপহরণকারীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তি পরে বুধবার ভোরে বেনাপোল পৌর গেট হক ফিলিং স্টেশনের পাশের একটি ঘর থেকে অপহরণ হওয়া শাহীনকে উদ্ধার করে।

 

যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রুপণ কুমার সরকার বলেন, অপহরণের বিষয়টি স্পর্শ কাতর হওয়ায় যশোর পুলিশ সুপার মামলাটির তদন্তভার দেন যশোর গোয়েন্দা পুলিশের উপরে। আমি যশোর গোয়েন্দা পুলিশের চৌকস অফিসার মফিজুল কে তদন্তের দায়িত্বে দেই। তিনি প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করেন। এক পর্যায়ে গতকাল রাতে চৌগাছাও ঝিকরগাছা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই অপহরণকারী আটক করতে সক্ষম হয়। এরপর তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি উপর ভিত্তি করে বেনাপোল পোর্ট থানার অধিভুক্ত বেনাপোল পৌর গেটের পাশে হক ফিলিং স্টেশনের পাশের একটি ঘর থেকে শাহীনকে উদ্ধার করা হয়। দুপুরে অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।