উদ্ধার হওয়া কচ্ছপ উপমন্ত্রীর ফোনে সুন্দরবনের পুকুরে অবমুক্ত

চিংড়ি ঘেরের ভেঁড়ী/বাঁধের উপর থেকে একটি সন্ধি কচ্ছপ উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ওই কচ্ছপটি সুন্দরবনের করমজলের সেফটি পুকুরে অবমুক্ত করা হয়েছে।

 

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবির জানান, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা রনসেন গ্রামের মোঃ আশিকের চিংড়ি ঘেরের ভেঁড়ী/বাঁধের উপরে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি সন্ধি কচ্ছপ দেখতে পায় ঘেরের কর্মচারী তহিদুল গাজী। সেখান থেকে তহিদুল কচ্ছপটিকে উদ্ধার করে ঘের মালিক আশিকের বাড়ীতে রাখেন।

 

এরপর শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২ টার দিকে স্থানীয় সাংসদ (মোংলা-রামপাল) ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার ফোন করে কচ্ছপটিক সেখান থেকে নিয়ে সুন্দরবনে অবমুক্ত করার জন্য বনবিভাগের কর্মকর্তা আজাদ কবিরকে বলেন। উপমন্ত্রীর ফোন পেয়েই আজাদ কবির বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘের মালিক আশিকের কাছ থেকে কচ্ছপটি নিয়ে মোংলায় আসেন। এরপর বিকেলেই সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের সেফটি পুকুরে সন্ধি কচ্ছপটি অবমুক্ত করেন তিনি।

 

 

বন কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, সন্ধি প্রজাতির কচ্ছপ মুলত জলাশয়ে বিচরণ করে থাকে। এটি মিষ্টি ও লবণ পানির জলাশয়ে এখনও দুই একটি দেখা যায়। এ সন্ধি কচ্ছপও বিলুপ্ত প্রায়। এ সব প্রাণী পরিবেশের ভারসম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে। কিন্তু কালের বিবর্তনে জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব ও মানুষ ধরে মেরে ফেলাসহ ও খাওয়ায় তাও আজ বিলুপ্ত প্রায়। পরিবেশ থেকে এমন বিভিন্ন প্রাণীর বিলুপ্তি হওয়ায় নানা ধরণের রোগবালাই সহ নানা সমস্যার দেখা দিচ্ছে।

 

 

কচ্ছপের মত অন্যান্য প্রাণীগুলো পরিবেশের ভারসম্য বজায় রাখে আর তার সুফল ভোগ করে মানুষেরাই। তাই কোন প্রাণীকে না মেরে আমাদেরকে খবর দিলে আমরা তা উদ্ধার করে তার বসবসা উপযোগী স্থানে ছেড়ে দিতে পারি কিংবা সংরক্ষণ করতে পারি। তাই সকলের প্রতি বনবিভাগের পক্ষ থেকে আহবাণ হলো পরিবেশের সুরক্ষায় এ ধরণের প্রাণীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সবার সহায়তার প্রয়োজন।