দামুড়হুদায় ভৈরব থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রি

চুয়াডাঙ্গায় দামুড়হুদার পশ্চিম দিক দিয়ে বয়ে যাওয়া ভৈরব নদী থেকে অবৈধভাবে বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি হচ্ছে।

 

এক সময়ের খরস্রোতা খালে পরিণত হওয়া নদীটি পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সসম্প্রতি পূর্ণ খননকাজ চলছে। খননের সময় সুযোগ বুঝে ঠিকাদার বিশ্বজিত চন্দ্র শাহা ওই নদী থেকে অবৈধভাবে বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে স্তুপ করে রাখছেন।এই বালু ইটভাটাসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছেন তিনি।

 

জানা গেছে, দামুড়হুদার সীমানায় ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ভৈরব নদী রয়েছে।এর মধ্যে সুবলপুর থেকে কানাইডাঙ্গা পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার নদী খননের কাজ পান ঠিকাদার বিশ্বজিত। আইনগতভাবে ভূ-গর্ভস্থ বা নদীর তলদেশ থেকে মাটি বা বালু উত্তোলন করা নিষিদ্ধ থাকলেও আইনের তোয়াক্কা না করে তিনি কার্পাসডাঙ্গার কোমরপুর ঈদগার দক্ষিণ পাশ, কোমরপুর মানকি ঘাট, জোড়াতলা গালা, কার্পাসডাঙ্গা খাবলি ঘাট, তেতুলতলা ঘাট নামক ৫টি স্থানে বোমা মেশিন দিয়ে বিপুল পরিমান বালু উত্তোলন করে স্তুপ করে রাখছেন। পরে রাতের আঁধারে বা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এক হাজার টাকা ট্রলি দরে প্রতি দিন প্রায় ১০০ট্রলি বালু ইট ভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন।

 

এ বিষয়ে গতকাল শনিবার (২৫ জুন) ঠিকাদার বিশ্বজিত চন্দ্র শাহার ম্যানেজার আবু বক্কর বলেন, ভৈরব নদী খননের সময় মাঝখানে গ্যাপ থাকায় ওখান থেকে বালু উত্তোলন করে রাখা হয়েছে। সেই বালু বিক্রি হচ্ছে।

 

কার্পসডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল করিম বিশ্বাস বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ।বালু উত্তোলনে ফলে পানি দূঘণসহ নদীগর্ভের গঠন প্রক্রিয়া বদলে যায়। এতে করে নদীভাঙনের সৃষ্টি হয়ে চাষাবাদের জমিও নষ্ট হয়ে থাকে। তেমনি প্রাণিকুলের মধ্যে পরিবর্তন ঘটে। ফলে তাদের আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎসও ধ্বংস হয়। ফলে মৎস্য প্রজনন প্রক্রিয়া পাল্টে যায়। তাই ফসলি জমি ও মৎস রক্ষায় আমাদের সকলের সচেতন হওয়া দরকার।

 

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত কুমার সিংহ জানান, নদীগর্ভ থেকে বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো ব্যক্তি সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বালু উত্তোলন করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।