বিদায় হিরো আলম!

কোরবানি হলো বগুড়ার আলোচিত ‘হিরো আলম’। সোমবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে শহরের বড়গোলা এলাকায় হিরো আলমকে কোরবানি দেওয়া হয়।

 

ঈদের দুইদিন আগে সাড়ে চার লাখ টাকায় হিরো আলমকে কিনে নেন শহরের বড়গোলা এলাকার মোল্লা ট্রেডার্সের মালিক আলহাজ জেলহজ্ব চাঁন মোল্লা। সকালে ‘হিরো আলমকে’ গোয়াল ঘর থেকে বের করা হলে শত শত মানুষ গরুটি দেখতে ভিড় জমায়।

 

আলহাজ জেলহজ্ব চাঁন মোল্লা বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোরবানির জন্য এ গরু কেনা হয়েছে। ঈদের পর দিন সকাল সাড়ে ১০টায় গরুটি কোরবানি দেওয়া হয়েছে।

হিরো আলমের মালিক বগুড়া সদর উপজেলার ফুলবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকার তরুণ খামারি জিয়াম প্রামাণিক। ২০১৯ সালে জন্ম নেয় হিরো আলম। তখন থেকেই জিয়ামের আদর-ভালোবাসায় বড় হতে থাকে গরুটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে আলোচিত বগুড়ার বাসিন্দা হিরো আলমকে ভালোবেসে নিজের গরুটির এই নাম রেখেছিলেন তিনি।

 

জিয়াম প্রামাণিক জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বগুড়ার হিরো আলমকে নিয়ে অনেক ট্রল হলেও, করোনা কিংবা বন্যায় অসহায়দের পাশে সবসময় দাঁড়ানোর কারণে আলমকে পছন্দ করেন তিনি। তাই জন্মের কিছুদিন পর প্রিয় গরুর নাম রেখেছেন হিরোর নামে।

 

কালো ও সাদা রঙের তিন বছর আট মাস বয়সের ষাঁড়টির দৈর্ঘ্যে প্রায় ৮ ফুট এবং উচ্চতা সাড়ে ৫ ফুট। এ কয় বছরে এটির ওজন ঠেকে ২২ মণে। এবারে কোরবানির বাজারে তোলার পরপরই ভাইরাল হয় হিরো আলম। ওই সময় জিয়াম এটির দাম হাঁকিয়েছিলেন আট লাখ টাকা।

 

জিয়াম বলেন, হিরো আলমকে ভালোবেসে পালন করেছি। টাকার অঙ্ক এখানে কোনো বিষয় না। আমি যে দামে বিক্রি করেছি, তাতে অন্তত আড়াই লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু এতে আমার দুঃখ নেই।

 

অস্ট্রেলিয়ান জাতের আরেকটি ষাঁড় পালন করছেন জিয়াম। আগামি কোরবানির জন্য এটি একটি চমক হবে বলে আশা করছেন তিনি।