অভয়নগরে স্বামীর হাতে প্রাণ গেল স্ত্রী ও ২ মেয়ের

যশোরের অভয়নগর উপজেলার চেঙ্গুটিয়া এলাকার একটি শালবন থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ঘাতক স্বামীর কাছে খবর পেয়ে পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে নিহত তিনজনের লাশ উদ্ধার করে।

 

নিহতরা হচ্ছেন-স্ত্রী বিথী বেগম (৩০), বড় মেয়ে সামিয়া খাতুন (৯) ও ছোট মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (২)

 

উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবদুল হক মোল্যা জানান, যশোর সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা জহুরুল বিশ্বাস (৩৫) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পে নিজেই হাজির হয়ে জানান, তার স্ত্রী বিথী বেগম , বড় মেয়ে সামিয়া খাতুন ও ছোট মেয়ে সুমাইয়া খাতুনকে নিজ হাতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর পার্শ্ববর্তী অভয়নগর উপজেলার চেঙ্গুটিয়া শালবনে ফেলে রাখা হয়েছে।

 

এ খবর জানার পর বসুন্দিয়া ক্যাম্প পুলিশ তাকে আটক করে অভয়নগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

 

অভয়নগর থানা পুলিশ অভয়নগর থানা পুলিশ পাষন্ড যুবককে আটক করে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শালবনে পড়ে থাকা তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে।

 

নিহত বিথী বেগমের মামা অমিত জানান, বিথীর স্বামী জহুরুল বিশ্বাস একজন নেশাগ্রস্থ মানুষ। সে তার ভাগনিসহ তার মেয়ে দুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। আমরা তার শাস্তি দাবি করছি। বিথীর খালাতো চাচা নাসির উদ্দিন মিলন জানান, জহুরুল বিশ্বাস একজন ভবঘুরে মানুষ। সে কোন কাজকাম করতো না। যৌতুকের দাবিতে এবং মোটর সাইকেল কেনার জন্য তার ভাইজিকে প্রায়ই মারধোর করতো। এই খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

 

অভয়নগর থানার ওসি একেএম শামীম হাসান জানান, পারিবারিক কোনো কারণে হয়তবা পাষন্ড স্বামী তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করে শালবনে ফেলে রাখে। ইতোমধ্যে হত্যার ক্লু বের করার জন্য পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ শুরু করেছে ।

 

ইতোমধ্যে পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ শুরু করেছে। এ রিপোর্ট লেখার সময় যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-খ) মুকিত সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন।