মোংলায় দাদীর সাথে অভিমান করে কীটনাশক পানে হাফেজ নাতির আত্মহত্যা

মোংলায় দাদীর সাথে অভিমান করে কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করেছেন নাতি। আত্মহননকারী নাতি কোরআন হাফেজ পাস একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। সে খুলনার একটি মাদ্রাসায় পড়াশুনা করেন।
আত্মহননকারী শিক্ষার্থীর চাচা শেখ রাসেল জানান, উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আমড়াতলা গ্রামের বাবুল শেখের ছেলে হাফেজ আবু জিহাদ শেখ (১৫)।

 

সে গত বছর খুলনার একটি মাদ্রাসা থেকে কুরআনে হাফেজ পড়া সম্পন্ন করেছেন। এরপর তিনি বাড়ীতে চলে আসনে। নতুন করে মাদ্রাসায় ভর্তির প্রস্তুতু চলছিলো তার। কিন্ত শনিবার বিকেল ৫ টার দিকে বাড়ীতে তার দাদীর সাথে ঝগড়া হয়। সেই ঝড়গার জের ধরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে দাদীর সাথে অভিমান করে ঘরে থাকা চাউলের পোকা নষ্ট করার কয়েক প্যাকেট কীটনাশক খেয়ে ফেলেন জিহাদ। কীটনাশক খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেে আনেন তার পরিবার। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ মোঃ ফয়সাল ইসলাম স্বর্ন বলেন, কীটনাশক খাওয়া গুরুতর মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। এখানে আনার পর তার পাকস্থলীতে জমা হওয়া কীটনাশক পরিস্কারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়াকালীন তার মৃত্যু হয়।

 

তিনি আরো বলেন, মুলত সামাজিক মুল্যবোধ ও অবক্ষয়ের কারণেই আত্মহত্যার প্রবণতার সৃষ্টি হয়ে থাকে। এছাড়া একাকিত্ব থাকা, পরিবারের সাথে বনিবনা না হওয়াসহ পারিবারিক কলহেই আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। এর আগে শুক্রবার কানাইনগর এলাকায় কুলসুম বেগম ও বৃহস্পতিবার বৈদ্যমারী এলাকায় পারিবারিক কলহের জের ধরে দুই গৃহবধু গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এজন্য পরিবারকে আরো সতর্ক হয়ে সন্তাদের উপর নজরদারী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার জরুরী বলে মনে করেন এ চিকিৎসক। ঘের ব্যবসায়ী বাবুল শেখের দুই ছেলে মেয়ের মধ্যে জিহাদ ছোট সন্তান।

 

এদিকে সোনাইলতলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর চম্পক ঢালী বলেন, মুলত হাফেজ আবু জিহাদ শেখ পড়াশুনার সুবাদে খুলনায় থাকায় গোপনে সেখানে বিয়ে করেছেন শুনেছি। তার পরিবার এ বিয়ে মেনে না নেয়ার কারণেই মুলত ঝগড়াঝাঁটি হয়। বিয়ের খবর জানতে পেরে খুলনায় যেতে না দেয়াসহ ওই ঝগড়া জেরেই জিহাদ আত্মহত্যা করেছেন বলেও জানান তিনি।

 

হঠাৎ করে মোংলায় আবারও বেড়ে গেছে আত্মহত্যার প্রবণতা। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসের ১২ দিনে ৮ জন আত্মহত্যা করেন। আর ২০২১ সালে এ আত্মহত্যার সংখ্যা ছিলো ২৪ জনে। চলতি বছরের ১৬ জুলাই পর্যন্ত আত্মহত্যা করেছেন ৩১ জন। ২০২১ সাল জুড়ে ২৪ জন আর ২২ সালের শুধু ৬ মাস ১৬ দিনে আত্মহত্যা করেছেন ৩১ জন। এতেই বুঝা যাচ্ছে যে ক্রমেই আত্মহত্যার প্রবণতা এখানে বেড়েই চলেছে।

 

মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার আমড়াতলায় জিহাদ নামের এক ছেলে আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।