২৯ আগস্ট মেট্রোরেলের পরীক্ষামূলক চলাচল

ছবি: সংগৃহীত

ভায়াডাক্টের ওপর দিয়ে পরীক্ষামূলক চলাচলের জন্য প্রস্তুত মেট্রোরেল। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্র জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক এই চলাচলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী রোববার (২৯ আগস্ট)। রাজধানীর উত্তরা থেকে মিরপুর পল্লবী স্টেশন পর্যন্ত এদিন উড়াল পথে প্রথমবারের মতো চলবে মেট্রোরেল।

ডিএমটিসিএল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরীক্ষামূলকভাবে মেট্রোরেল চলাচলের সময় কোনো যাত্রী পরিবহন করা হবে না। মেট্রোরেলের কোচগুলোই কেবল চলবে এসময়।

এ প্রসঙ্গে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম এ এন ছিদ্দিক সারাবাংলাকে বলেন, উত্তরা থেকে মিরপুর পল্লবী পর্যন্ত স্টেশনগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ট্রেন চালানো হবে। আগামী ২৯ আগস্ট যে ট্রেন চলবে, তাতে কোনো যাত্রী থাকবে না। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত সিদ্ধান্ত আগামী দুই দিনে নেওয়া হবে।

ডিএমটিসিএল এমডি আরও বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা কাজ থামিয়ে রাখিনি। আমরা কাজ এগিয়ে নিয়েছি।

জানা গেছে, উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল পথের জন্য ৯টি স্টেশন স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে পাঁচটি স্টেশনের মধ্যে ভায়াডাক্টের ওপর ট্রেন পরিচালনার প্রস্ততি নেওয়া হচ্ছে।

শুরুতে রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত মেট্রোরেলের লাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরে এই লাইনের দৈর্ঘ্য কমলাপুর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে আপাতত মতিঝিল পর্যন্তই লাইন স্থাপনের কাজ চলছে।

ডিএমটিসিএল সূত্র বলছে, গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত মেট্রোরেলের লাইন নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ৬৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। বর্তমানে ১৭টি স্টেশনের কাজ চলছে পুরোদমে। দিয়াবাড়িতে ডিপোর ভেতরে রেলপথ স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ওয়্যারিংয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

জানা গেছে, ভায়াডাক্টের ওপরে মেট্রোরেলের মূল রেলপথে ১৫ দশমিক ৫০ কিলোমিটার বৈদ্যুতিক ওয়্যারিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে চারটি মেট্রো ট্রেন সেট ডিপোতে চলে এসেছে। এর মধ্যে দুইটি সেটের পরীক্ষাও শেষ। তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ের ট্রেন সেটের পরীক্ষা চলমান।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম ও দ্বিতীয় সেটের ট্রায়াল ডিপোর ভেতরেই শেষ হয়েছে। এখন ভায়াডাক্টের ওপরে ট্রায়াল দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এতে সফল হলে মেট্রোরেল চলাচলে আর কোনো বাধা থাকবে না। যখন লাইন স্থাপনের কাজ শেষ হবে, তখন এগুলো চলতে পারবে।