চুয়াডাঙ্গায় বিয়ে ফেলে পালিয়ে গেল বর,কাজীর ৬মাসজেল,বরের দুলা ভাইয়ের জরিমানা

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেয়েছে কিশোর-কিশোরী। শনিবার (২৮ আগস্ট) রাত ১১ টার দিকে কনের বাড়িতে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেন। এ সময় কাজীকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং বাল্যবিয়েতে সহযোগিতা করার অপরাধে বরের দুলাভাইকে ২ হাজার ১শ’ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।
ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১১ টার দিকে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে কলোনীর পঞ্চম শ্রেণীর (১২) এক ছাত্রীর সাথে কনের বাড়িতে গোপনে সদর উপজেলার জাফরপুর গ্রামের এক কিশোরের (১৭) বাল্যবিয়ের আয়োজন চলছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালত ওই বিয়ে বাড়িতে হাজির হন। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে বরসহ অন্যরা পালিয়ে গেলেও ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজী নাজমুল হক হিরাকে এবং পাত্রের অবিভাবক দুলাভাই সাইফুল ইসলামকে আটক করে।
ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক মাজহারুল ইসলাম বলেন, কনের বাড়িতে বাল্যবিয়ের আয়োজন চলছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বিয়ে বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের আরাম পাড়ার মৃত দাউদ হোসেনের ছেলে কাজী নাজমুল হক হিরাকে আটক করে বাল্যবিয়ে নিধন আইন ২০১৭ সালের ৯ ধারায় ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সাথে বাল্যবিয়েতে সহযোগিতা করার অপরাধে বরের দুলাভাই সাইফুল ইসলামকে ২ হাজার ১ শ’ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া বাল্যবিয়েটি বন্ধ করে উভয়পক্ষের অভিভাবকদেরকে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে বোঝালে তাঁরা তাঁদের ভুল বুঝতে পারেন। প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত সন্তানকে বিয়ে দেবেন না বলে জানান তারা।
ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সার্বিক সহযোগিতা করেন, পেশকার সোবহান আলী এবং সদর থানা পুলিশের সদস্যরা।