ঐতিহাসিক আফগান যুদ্ধের সমাপ্তি ,শেষ মার্কিন বিমান কাবুল ছাড়ল

ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের সবশেষ ফ্লাইটটিও আফগানিস্তান ছাড়ল। এর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটলো ২০ বছরের আফগান যুদ্ধের। ইউএস সি-১৭ বিমানটি বিকেল ৩টা ২৯ মিনিটে হামিদ কারজাই বিমানবন্দর ছেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল ফ্রাঙ্ক ম্যাককেনজি।

তবে সবশেষ বিমান কাবুল ছেড়ে চলে গেলেও এখনো প্রায় একশ মার্কিন নাগরিক রয়ে গেছেন আফগানিস্তানে।


গেল ১৪ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৭৯ হাজার মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে গেছে। যার মধ্যে ৬ হাজার মার্কিন নাগরিক, আর বাকিরা যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করা আফগান। তাছাড়া অনেক আফগান নাগরিক উন্নত জীবনের আশায় ব্রিটেন, জার্মানি, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। সেই দেশগুলোর বিমানে করে তারা কাবুল ছাড়েন।

এর আগে দুই সপ্তাহের মধ্যে ১৫ হাজারের বেশি লোক সরিয়ে নেওয়ার পর শনিবার (২৮ আগস্ট) গভীর রাতে ব্রিটেনের শেষ সামরিক ফ্লাইট কাবুল ত্যাগ করেছে।

এদিকে তালেবানের কাবুলের ক্ষমতা গ্রহণের বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো স্বাভাবিক হয়নি কাবুল বিমানবন্দরের পরিস্থিতি। এরইমধ্যে কাবুল বিমানবন্দরে আবারও ভয়াবহ হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফের হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

শুরুতে কাবুল বিমানবন্দরের অবস্থা বেগতিক হলেও অন্যান্য স্থানে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছেন আফগানবাসী। এখনো বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত রয়েছে তালেবানের টহল।


এদিকে ক্ষমতা গ্রহণের পর আফগানিস্তানে নতুন একটি মন্ত্রিসভা ঘোষণার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে তালেবান।


শনিবার (২৮ আগস্ট) টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে বলেন তালেবানের অন্য এক ঊর্ধ্বতন নেতা শের মোহাম্মদ আব্বাস, বর্তমানে তালেবান নেতৃত্ব একটি সরকার গঠনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, রাজনৈতিক দল এবং ইসলামী আমিরাতের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যে সরকার আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে এবং বাইরে গ্রহণযোগ্য এবং স্বীকৃত হবে।

এর আগে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলা হয়। এ হামলার জের ধরে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নামে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযানে যায় যুক্তরাষ্ট্র। নাইন ইলেভেনের ঘটনার ২০ বছর পূর্তির আগেই আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

আফগানিস্তানে যুদ্ধ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন। ২০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো।