আগামীকাল বুধবার থেকে ভ্রমণ করা যাবে সুন্দরবন

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে সরকারি বিধিনিষেধের কারণে প্রায় ৬ মাস বন্ধ থাকার পর পর্যটদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হচ্ছে সুন্দরবন। আগামী বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে ভ্রমণ করা যাবে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এই ম্যানগ্রোভ বন। তবে ভ্রমণকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে পর্যটকদের।

এদিকে দীর্ঘদিন পর খুলে দেওয়ার ঘোষণায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন ট্যুর অপারেটররা। অলস বসে থাকা নৌযানগুলোর ধোয়ামোছা ও ক্রুটি সারানোর কাজ করছেন তারা। এছাড়াও গত ছয় মাস বন্ধ থাকায় সরকার প্রায় ২০ লাখ টাকার রাজস্ব হারিয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

সুন্দরবনের পর্যটন স্পট করমজলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, পর্যাটকরা যাতে নির্বিগ্নে চলাচল করতে পারে সেই লক্ষ্যে ধোয়ামোছার কাজ চলছে। আমরা সবাই প্রস্তুত আছি।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, শর্ত সাপেক্ষে আগামী বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে সুন্দরবন দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। ভ্রমণকালে মানতে হবে সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক পরিধান করতে হবে। পর্যটকদের ২৫ জন করে গ্রুপ করে নৌযান থেকে বনে নামতে হবে এবং ঘুরতে হবে। একইসঙ্গে বেশি লোক নামা ও ঘোরাফেরা করা যাবে না। যারা এ সকল শর্ত ভঙ্গ করবেন অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বনবিভাগ।

বুধবার পর্যটকদের জন্য খুলে যাচ্ছে সুন্দরবন

তিনি আরও বলেন, গত ৩ এপ্রিল থেকে সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকায় ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ৫ মাস ২৭ দিনে প্রায় ২০ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হয়েছে বনবিভাগ। তাই বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলো সংস্কার ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কারণ দীর্ঘদিন ধরে পায়ে হাঁটা পথ ও ওয়াচ টাওয়ারসহ বিভিন্ন স্থাপনা ব্যবহার না হওয়াতে ময়লা জমে ও ভেঙে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল থেকে করোনার সংক্রমণ রোধে সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় প্রায় ৬ মাস পর আবারও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে সুন্দরবন।