মার্কিন সৈন্যরা আফগানিস্তানে যা রেখে চলে গেল

কাতারের দোহায় তালেবানের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ৩১ আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে চলে যাওয়ার কথা ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর। কিন্তু একদিন হাত রেখেই সোমবার (৩০ আগস্ট) রাতে কাবুল ছাড়ে মার্কিন বাহিনী।

 

৩১ আগস্টের মধ্যে তারা চলে যাওয়ার জন্য ৭৩টি এয়ারক্রাফট, ১০০টি যানবাহনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।

 

এগুলোর কোনোটিই ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড প্রধান জেনারেল কেনেথ ম্যাককেঞ্জি। তিনি আরও বলেন, এগুলো আর আকাশে উড়ানো যাবে না।

 

মার্কিন বাহিনীর কাবুলে পরিত্যক্ত ঘোষিত এয়ারক্রাফটের মধ্যে রয়েছে-

 

১. এমডি-৫৩০ মডেলের হেলিকপ্টার

২. এ-২৯ মডেলের আক্রমণ প্লেন

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত আফগান সামরিক বাহিনী ৪৩ এমডি-৫৩০এস এবং ২৩ এ-২৯এস মডেলের বিমান ব্যবহার করে। যা যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেওয়া হয়েছিল।

আলাদা আলাদা করে প্রত্যেকটি সরঞ্জামের দাম নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। তবে এ-২৯ মডেলের যে কয়টি এয়ারক্রাফট রয়েছে তার মূল্য ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।

লা টাইমস এর প্রতিনিধি নবী বোলসের ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে তালেবান যোদ্ধারা সিএইচ-৪৬ সি নাইট হেলিকপ্টার পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করছে।

 

এই হেলিকপ্টার দিয়ে কাবুলে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের সাতটি হেলিকপ্টার পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

জেনারেল ম্যাককেঞ্জি আরও জানান, ৭৯টি মাইন প্রতিরোধী গাড়ি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। যার মূল্য ৫ লাখ ডলার থেকে ১ মিলিয়ন ডলার।

এদিকে তালেবানের হামলার মুখে আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে সরকারের সামরিক বাহিনী টিকতে না পেরে তাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ধ্বংস করে পালিয়ে যায়।

জুন মাসের শেষে তালেবান যোদ্ধারা হামলা চালিয়ে একের পর এক প্রদেশ দখল করে নিতে শুরু করে। সবশেষ গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখলের মাধ্যমে তারা তাদের যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করে। এই যুদ্ধের মাধ্যমে তারা সরকার বাহিনীর ব্যবহৃত ১৬৭টি এয়ারক্রাফট এর মধ্যে রয়েছে ৩৩ ইউএইচ-৬০ মডেলের হ্যাঙ্ক হেলিকপ্টার নিজেদের করে নেয়। সূত্র: বিবিসি