টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের ‘বিস্ময়কর’ সাফল্য

শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ের পর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে প্রথমবারের মতো ৭ নম্বরে বাংলাদেশ।

বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে এ সাফল্য অর্জন করে টাইগাররা।

র‌্যাংকিংয়ের ১০ নম্বরে থেকে জয়ের ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলংকা ও আফগানিস্তানকে হটিয়ে ৭ নম্বরে উঠে যায় বাংলাদেশ।

এছাড়া এই সিরিজে যদি টাইগাররা নিউজিল্যান্ডের দলটিকে ৫-০ ব্যবধানে হারাতে পারে তাহলে ২৪৮ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বর পজিশনে উঠে যাবে। সেই সঙ্গে টাইগাররা টপকে যাবে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে।

বাংলাদেশ যদি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে জয় পায় তাহলে ২৪৫ পয়েন্ট নিয়ে র‌্যাংকিংয়ের ষষ্ঠ পজিশনে উঠে যাবে। সেই সঙ্গে টপকে যাবে অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।

সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেলেও বাংলাদেশ ১০ম পজিশন থেকে ২৪১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ পজিশনে উঠে যাবে।

এদিকে বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টির প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৬০ রানে গুটিয়ে যায় টম লাথামের দল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ২ উইকেট হারিয়ে হোঁচট খেলেও লক্ষ্যচ্যুত হয়নি টাইগার বাহিনী। মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে ভর করে ৩০ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নেয় টিম টাইগার্স। আর এর মধ্য দিয়ে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল মাহমুদউল্লাহর দল।


শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকা মুশফিক ২৬ বলে করেছেন ১৬, আর মাহমুদউল্লাহ করেন ১৪ রান। এর আগে সাকিব রবীন্দ্রর বলে আউট হওয়ার আগে ৩৩ বল খেলে করেছেন ২৫ রান।  

দুই ওপেনার নাঈম ও লিটন দাস ফিরে যান ইনিংসের শুরুতেই। নাঈম ১ রান করে আউট হন। লিটনও করেন ১ রান। কোল ম্যাককনকির ঝুলিয়ে দেওয়া বলে আগ বাড়িয়ে খেলতে গিয়ে কাভারে হেনরি নিকোলসের হাতে ধরা পড়েন নাঈম। এজাজ প্যাটেলের ঝুলিয়ে দেওয়া বলে বেশ খানিকটা আগবাড়িয়ে ড্রাইভ করতে গিয়ে মিস করেছিলেন লিটন দাস। তবে চলে গিয়েছিলেন ক্রিজের বাইরে। স্টাম্প ভাঙতে ভুল হয়নি টম ল্যাথামের।

এর আগে বাংলাদেশে খেলতে এসে শুরুটা দুঃস্বপ্নের মতো হলো সফরকারী নিউজিল্যান্ডের। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে ব্যাট হাতে পুরোপুরি ব্যর্থ কিউই ব্যাটসম্যানরা। সাকিব-মেহেদীদের ঘূর্ণিতে শুরু থেকেই ম্যাচের নাটাই টিম টাইগার্সের হাতের মুঠোয় ছিল।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে পুরোপুরি ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারী নিউজিল্যান্ড। দলের খাতায় মাত্র ৯ রান যোগ করতেই ৪ উইকেট হারায় দলটি। শুধু প্রতিপক্ষ পরিবর্তন। চিত্রনাট্য একই। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছিলেন মেহেদী হাসান। আজ বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও একই নৈপুণ্য দেখালেন এই তরুণতুর্কি।

ইনিংসের প্রথম ওভারের মাত্র তিন বলের মাথায় কিউই ব্যাটসম্যান রাচীন রবিন্দ্রকে সহজ ক্যাচে পরিণত করেন মেহেদী হাসান। অভিষেক ম্যাচেই গোল্ডেন ডাকের শিকার হন রাচীন।

ইনিংসে তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে সাকিব আল হাসানকে কাট করতে গিয়ে বল স্টাম্পে টেনে আনেন উইল ইয়াং। নিজের প্রথম ওভারেই উইকেটের দেখা পেলেন সাকিব। ১১ বলে ৫ রান করে আউট হন ইয়াং। ৩ ওভার শেষে ২ উইকেটে মাত্র ৮ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড।

এরপর চতুর্থ ওভারে নাসুম আহমেদ বোলিংয়ে এসে তুলে নেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে। তুলে মারতে গিয়ে আফিফের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। আউট হওয়ার আগে ৪ বলে মাত্র ১ রান করতে পেরেছিলেন। এদিকে, বাংলাদেশের তিন স্পিনারই শুরুতেই উইকেটের দেখা পেলেন। বাংলাদেশের স্পিন ঘূর্ণিতে দাঁড়াতেই পারল না নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডার! চতুর্থ ওভারে গ্র্যান্ডহোমকে আউট করার দুই বল পর আবারো উইকেটের দেখা পেলেন নাসুম। ৬ বলে ২ রান করা ব্লান্ডেল তার আর্ম বলে বোল্ড আউট হন।

পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮ রান করে নিউজিল্যান্ড। একে তো মন্থর শুরু, পাশাপাশি স্পিনারদের খেলতে না পারায় দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। টপ অর্ডারে প্রথম চার ব্যাটসম্যান ব্লান্ডেল, রবীন্দ্র, ইয়াং ও গ্র্যান্ডহোমের স্কোর যথাক্রমে ২,০,৫,১।

দলের সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে সঙ্গী হলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথামও। ২৫ বলে ১৮ রান করে সাইফুদ্দিনের বলে নাসুমের সহজ ক্যাচে পরিণত হন তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে হেনরি নিকোলসের সঙ্গে জুটি বেধে ৩৪ রান যোগ করেন। সাইফুদ্দিনের সফল ওভারের পর আবারো বল হাতে সাকিব। আবারো সেই চিরচেনা উদযাপন দলের। সাকিবের বলে সাজঘরে ফেরেন কোল ম্যাককঞ্চি। আউট হওয়ার আগে ৩ বল খেললেও কোনো রান করতে পারেননি।

নিউজিল্যান্ডের যা একটু আশা হয়ে ছিলেন হেনরি নিকোলস। শেষ হয় সেটিও। সাকিবের আঘাতের পরের ওভারেই সাইফউদ্দিনকে তুলে মারতে গিয়েছিলেন নিকোলস, লং-অনে ধরা পড়েছেন মুশফিকের হাতে। ১৪ ওভার শেষে ৪৯ রানে ৭ম উইকেট হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড।