কারামুক্ত পরীমনির সেলফি ও মেহেদির রঙে লেখা বার্তা

ঢাকায় ফিরেই পেলেন বাসা ছাড়ার নোটিশ

আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি মুক্তি পেয়েছেন। মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের ২৭ দিন পর গতকাল বুধবার মুক্তি পান তিনি। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন জেল সুপার হালিমা আক্তার।

তিনি জানান, মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে পরীমনির জামিন হয়। ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছে। যাচাই-বাছাই শেষে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় পরীমনিকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে একটি সাদা গাড়ি নিয়ে কারাগারে পৌঁছেন আইনজীবীসহ পরীমনির খালু। এ সময় কারা ফটকের সামনে ছিল পরীমনির ভক্ত-সমর্থকসহ সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

মুক্তির পর কারা ফটক দিয়ে বেরিয়ে হাসিমুখে গাড়িতে উঠে বসেন পরীমনি। এ সময় তাঁর পরনে ছিল জিন্সের প্যান্ট ও সাদা টি-শার্ট। গাড়ি ছাড়ার মুহূর্তে ঘিরে ধরে ভক্তরা। হাত নেড়ে জানাতে থাকে শুভেচ্ছা। কেউ কেউ হাত বাড়িয়ে দেয় তাঁর দিকে। উচ্ছ্বসিত পরীমনিও ভক্তদের সঙ্গে হাত মেলান। এক পর্যায়ে গাড়ির সানরুফ দিয়ে মাথা বের করে ভক্তদের সঙ্গে সেলফি তোলেন তিনি। এ সময় তাঁর হাতে মেহেদির রঙে ইংরেজিতে লেখা

Don’t Love me Bitch (ডোন্ট লাভ মি বিচ) সবার নজরে পড়ে।

‘ডোন্ট লাভ মি বিচ’ লেখার কারণ জানালেন পরীমনি

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরীমনি একবাক্যে বলেন, ‘কুকুর ছানাদের জন্যে!’ এরপর স্বভাবসুলভ হাসিতে ভেঙে পড়েন। ক্ষণিক পরেই নিজেকে সামলে নিয়ে এই বাক্যের ব্যাখ্যা দেন তিনি। বলেন, ‘আমার আশেপাশে সারাক্ষণ কিছু মানুষ ছিল, তারা আমাকে লোভ দেখানো ভালোবাসা দেখিয়েছে। তাদের এতদিন না চিনতে পারলেও বিপদে পড়ে ঠিকই চিনেছি- কে আপন আর কে পর? না বুঝে এত দিন মিশেছি, আর নয়।’

‘২৭ দিন জেল জীবন দুঃস্বপ্নের মতো ছিল’ উল্লেখ করে এই চিত্রনায়িকা বলেন, ‘এখন কাজে না ফেরার আগে শান্তি নেই।’ খুব দ্রুতই কাজে ফিরতে চান পরীমনি। এমনকি কাল থেকেই কথা বলতে চান পরিচালকদের সঙ্গে। জানান তিনি।

বাসায় ফিরেই পেলেন বাসা ছাড়ার নোটিশ

এদিকে গতকাল কাশিমপুর কারাগার থেকে ছাড়া পেড়ে পরীমনি রাজধানীর বনানীতে তাঁর ভাড়া বাসায় ফিরেই পেলেন বাসা ছাড়ার নোটিশ। জেল থেকে বাসায় ফেরা পর্যন্ত কোনো কথা না বললেও বাসায় ফিরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন পরীমনি।

তিনি গণমাধ্যমকে জানান, কারাগার থেকে বাসায় ফিরেই দেখেন বাসা ছাড়ার নোটিশ। এখন কি তাহলে তাঁর বসবাসের অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে? তাহলে কি তিনি ঢাকা ছেড়ে চলে যাবেন, নাকি দেশ ছেড়ে চলে যাবেন।

পরীমনি জানান, চার দিন আগে বাসা ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। বাসায় ফিরে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আমি তো একা থাকি না। আমার বয়স্ক নানুভাই আছেন। হঠাৎ করে কেন এমন করছে। কই যাব, সেটা কি কেউ বলতে পারেন?