প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে ‘আচমকাই’ বৈঠক বিএনপির স্থায়ী কমিটির

১ সেপ্টেম্বর ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে অনেকটা ‘আচমকাই’ বৈঠক করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ভার্চুয়ালি এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় দলটির নীতিনির্ধারকরা চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তবে বিশেষভাবে আলোচ্য ছিল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উপলক্ষটি। সদস্যরা একে-অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময় করেছেন।

বুধবার বিকাল থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অনির্ধারিত এই বৈঠকে বিএনপির নেতারা জিয়াউর রহমানকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে সৃষ্ট ইস্যুটি নিয়ে মতামত দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১টার দিকে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, বিএনপি মনে করছে- দেশে যখনই বড় কোনও সমস্যা আসে, তখনই পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে দিতে জিয়াউর রহমানকে কেন্দ্র করে সমালোচনা শুরু করে ক্ষমতাসীনরা। গত ১২ বছর ধরে এমনটি অনেকবার ঘটেছে বলে এবার বিএনপি পরিস্থিতি যাচাই করার চেষ্টা করছে। ‘বিএনপিকে ব্যস্ত রাখতে এই প্রক্রিয়া ফিরে আসে’ বলেও তিনি দাবি করেন।

জিয়াউর রহমানকে কেন্দ্র করে সরকার কোনও উদ্যোগ নিলে রাজনৈতিকভাবে তা মোকাবিলার করার বিষয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠকে দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মতবিনিময় করেছেন। শুভেচ্ছায় সিক্ত করেছেন পরস্পরকে। এসময় এলডিপি সভাপতি অলি আহমদের সমালোচনা করা হয়।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য বলেন, ‘মাঝেমাঝেই তারেক রহমান কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বসেন। কাজকর্ম, কাজের আদানপ্রদানমূলক আলোচনা হয়। বৈঠকে সংগঠন, আন্দোলন নিয়ে নানা আলোচনা করা হয়। আজকের বৈঠকে মূলত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়েই আলোচনা হয়েছে। কুশল বিনিময়, শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে।’

জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে কেন্দ্র করে এসব বিতর্ক সামনে আনছে। ইস্যু এনে বড় ইস্যুকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আজকে স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছে। আমরা কংগ্রাচুলেট করেছি পরস্পরকে। শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে।’