আফগানিস্তানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ঘোষণা করেছে তালেবান

আফগানিস্তানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ঘোষণা করেছে তালেবান। নতুন সরকারের ৩৩ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ হয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী। দেশটিতে পশ্চিমা সমর্থিত সরকারের পতনের পর স্বল্প পরিচিত এই তালেবান নেতাকে জনসমক্ষে দেখা যায়। তিনি জাতিসংঘের কালো তালিকায় রয়েছেন।

তালেবানের এই সরকারের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী করা হয়েছে সংগঠনের সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আব্দুল গানি বারাদারকে। অপরদিকে দ্বিতীয় উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন মৌলভী আব্দুল সালাম হানাফি।

আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমির খান মুক্তাকীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী করা হয়েছে মোহাম্মদ ইয়াকুবকে। তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে ইয়াকুব এতদিন এই গোষ্ঠীর সামরিক কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোল্লাহ মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সিরাজুদ্দিন হাক্কানি। হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতার ছেলে সিরাজুদ্দিন হাক্কানি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামির তালিকায় রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে মোটা অংকের পুরস্কারও।

এফবিআইয়ের ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, সিরাজউদ্দিন হাক্কানিকে গ্রেফতার করা সম্ভব এমন তথ্য দিতে পারলে এক কোটি ডলার (৮৫ কোটি টাকা প্রায়) পর্যন্ত পুরস্কার দেবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এফবিআইয়ের বিশ্বাস, সিরাজ হাক্কানি পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে রয়েছেন। তার সঙ্গে তালেবান ও আল-কায়েদার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

এদিকে তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন মৌলভী আমির খান মুত্তাকি। এছাড়া অর্থমন্ত্রী হিসেবে মোল্লাহ হিদায়াত বাদরি, আইনমন্ত্রী আব্দুল হাকিম ইশাকজাই এবং তথ্যমন্ত্রী হিসেবে খাইরুল্লাহ সাইদ ওয়ালি খাইরখার নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রীদের মধ্যে কেউ যুক্তরাষ্ট্রের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকা বা জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞায় থাকার কারণে এই সরকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রশাসন। অন্যান্য দেশও আফগানিস্তানের ওপর নজর রাখছে বলে জানা গেছে।

তালেবান নতুন সরকার ঘোষণার পরপরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি, (আফগানিস্তানে) ঘোষিত নামের তালিকায় কেবল তালেবান সদস্য বা তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা রয়েছেন এবং কোনো নারী নেই। আমরা (এদের মধ্যে) কিছু লোকের অন্তর্ভুক্তি ও অতীত ইতিহাস নিয়েও উদ্বিগ্ন।