কেশবপুরে ছাত্রলীগ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ৭ মে কেশবপুর পৌরসভার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের সাইক্লোন শেল্টারকেন্দ্রে স্থানীয় মানুষের মধ্যে টাকা বিতরণ করা হয়। কাউন্সিলর এবাদত সিদ্দিকীসহ তাঁর লোকজন ওই টাকা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় এবাদতের লোকজনকে মুঠোফোনে ডেকে ডেকে টাকা দেওয়া হয়। তখন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভ্যানচালক জসিম প্রতিবাদ করলে কাউন্সিলর এবাদত তাঁকে চড়-থাপ্পড় মারেন। অন্যরাও তাঁকে মারপিট করেন। এটা দেখে জসিমের স্ত্রী ফতেমা বেগম এগিয়ে গেলে তাঁর পরনের শাড়ি টেনে ও মারধর করে শ্লীলতাহানি করা হয়। এ সময় স্থানীয় ছাত্রলীগের কর্মী ও একই গ্রামের শারাফাত হোসেন ও কুদ্দুসকে আসতে দেখে এবাদতের নির্দেশে তাঁদেরও বেধড়ক পেটানো হয়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় শারাফাতসহ (সোহান) কয়েকজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মে শারাফাত মারা যান।

এ ঘটনায় শারাফাতের চাচা আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় মামলা করেন। বাদী আবুল কালাম আজাদ ও মামলার অভিযুক্ত এবাদত সিদ্দিকী পৌরসভা নির্বাচনে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যে কারণে তাঁদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অরূপ কুমার বসু বলেন, হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয় প্রমাণিত হওয়ায় অভিযোগপত্রে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে এবাদত সিদ্দিকীসহ তিনজনকে পলাতক দেখানো হয়েছে। দুই আসামি কারাগারে বন্দী।

মামলার বাদী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মামলার অন্যতম আসামি এবাদত সিদ্দিকীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’