যশোরে মাদক মামলার শাস্তি মাসে ৫ গরিব মানুষকে খাওয়ানো

যশোরে মাদক মামলার আসামি আলমগীর হোসেনকে ৯ শর্তে মুক্তি দিয়েছেন আদালত। রোববার যুগ্ম দায়রা জজ শিমুল কুমার বিশ্বাস এই আদেশ দেন।

আলমগীর হোসেন শার্শা উপজেলার রাড়িপুকুর গ্রামের মৃত রজব আলী গাজীর ছেলে।

শর্তগুলো হলো- সমাজসেবা অধিদফতরের প্রবেশন অফিসারের নজরদারিতে থেকে কোনো প্রকার অপরাধের সঙ্গে জড়িত হতে পারবেন না। শান্তি বজায় রেখে সকলের সঙ্গে সদাচারণ করতে হবে। আদালত অথবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাকে যেকোনো সময় তলব করলে শাস্তি ভোগের জন্য প্রস্তুত হয়ে নির্ধারিত স্থানে হাজির হতে হবে। কোনো প্রকার মাদক সেবন, বহন, সংরক্ষণ এবং সেবনকারী, বহনকারী ও হেফাজতকারীর সঙ্গে চলাফেরা বা মেলামেশা করা যাবে না।

জেলা যুগ্ম দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের এপিপি লতিফা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের বলেন, মামলায় আটকের পর আদালত থেকে জামিন নিয়ে আলমগীর হাজিরা মিস করেননি। এ মামলা ছাড়া তার আর কোনো মামলাও নেই। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। আসামির সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী পুনর্বাসনের জন্য শর্ত সাপেক্ষে প্রবেশনে মুক্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালত।

তিনি আরও বলেন, গত এক সপ্তাহে আরও চারটি মামলায় ব্যতিক্রমী এমন রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী ফরিদুল ইসলাম বলেন, যুগ্ম দায়রা জজ শিমুল কুমার বিশ্বাস যশোরে যোগদানের পর থেকে আসামি পুনর্বাসনের জন্য একের পর এক ব্যতিক্রমী রায় ঘোষণা করে যাচ্ছেন। আসামিদের পুনর্বাসনের জন্য এ ধরনের রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ১৯ জুন রাতে যশোর শহরের রেলগেট পশ্চিমপাড়া থেকে নয় বোতল ফেনসিডিলসহ আলমগীরকে আটক করে চাঁচড়া ফাঁড়ি পুলিশ।