প্রতারিত হচ্ছে কৃষক,ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, গাংনীতে ভেজাল সারে সয়লাভ

গাংনীর বিভিন্ন এলাকায় ভেজাল সার বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। ওই সার কিনে প্রতারিত হচ্ছেন চাষিরা। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ক্ষতি সাধন হচ্ছে ফসলের।

কৃষি অফিসের তদারকির অভাবে ভেজাল সার বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। তবে সংশ্লিষ্ট অফিস বলছে, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শিমুলতলার আবু তাহের জানান, তিনি বামন্দী বাজার থেকে ইউরিয়া পটাশ ফসফেট ও ডিএপি কিনে ধান ক্ষেতে প্রয়োগ করেন। কিন্তু ধান ক্ষেত বিবর্ণ হয়ে গেছে। কোন কাজ করেনি সারে। সার কেনার সময় কোন রশিদও দেয়া হয়নি তাকে। অন্ততঃ ৫ বিঘা জমির ধান ক্ষেতে এবার ফলন হবে না।

একই গ্রামের মনিরুল জানান, বাজার থেকে সার কিনে ব্যবহার করেছিলেন মরিচ ক্ষেতে সার দিয়েছিলেন। এক সপ্তারে ব্যবধানে মরিচ ক্ষেত বিবর্ণ হয় এবং মরিচ আর ধরেনি। বাধ্য হয়ে মরিচ ক্ষেত নষ্ট করে ধান রোপন করেছি। বিষয় সারের দোকানে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি।

একটি সুত্র জানায়, স্থানীয় ব্যবসায়িরা কৃষি অফিস থেকে সার ও কীটনাশক বিক্রির অনুমোদ নিয়ে ব্যবসা করছেন। কিন্তু কোন কোম্পনীর সাথে তাদের চুক্তিপত্র নেই। ফলে ভেজাল সার ও কীটনাশক পরিবেশকরা সহজেই এসব ব্যবসায়িদের কাছে তাদের মালামাল বিক্রি করতে পারেন। এতে স্বল্প পুঁজিতে বেশি মুনাফা হয় তাদের।

অপর একটি সুত্র জানায়, বিসিআইসির সার ডিলার ছাড়াও যারা আড়ৎদার তারা বিভিন্ন খুচরা ব্যবসায়িদের সার সরবরাহ করেন। আর কীটনাশক কোম্পানীর লোকজন সরাসরি তাদের বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কীটনাশক সরবরাহ করে থাকেন। আড়ৎদাররা খুচরা ব্যবসায়িদেরকে বিক্রিত মালামালের রশিদ প্রদান করলেও খুচরা ব্যবসায়িরা কৃষকদেরকে কোন প্রকার রশিদ দেন না। কৃষি অফিস বাজারে সরবরাহের কীটনাশকের মানও যাচাই করেন না। ফলে ভেজাল সার কীটনাশ দেদারছে বিক্রি হচ্ছে।

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার লাভলী খাতুন জানান, গাংনীতে বিসিআইসির ১২জন, বিএডিসির ৩০ জন, খুচরা ব্যবসায়ি ১৭ জন এবং কীটনাশক ব্যবসায়ি রয়েছে ৭৬০ জন। এসব ব্যবসায়িরা যেসব কোম্পানীর সার ও কীটনাশক বিক্রি করবে তাদের সাথে একটা চুক্তিপত্র থাকতে হবে। এবং ক্রেতাদেরকে রশিদ প্রদানের কথা। সেভাবেই সকল ব্যবসায়িকে বলা হয়েছে। এর ব্যতিক্রম যদি ঘটে এবং কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।