সাড়ে ১২ বছর ধরে বিএনপির তর্জন-গর্জন শুনে আসছি: হাছান মাহমুদ

ছবি সংগৃহিত

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির উদ্দেশ্য নির্বাচন নয়, দেশে ঝামেলা লাগিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে কিছু করা যায় কি-না, সেই অপচেষ্টা। সাড়ে ১২ বছর ধরে তাদের তর্জন-গর্জন শুনে আসছি। বিএনপির জন্মটাই পেছনের দরজা দিয়ে এবং এ কারণেই তারা সবসময় পেছনের দরজা খোঁজেন।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ প্রচার সেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি ২০১৪ সালেও নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিল, পাঁচশ ভোটকেন্দ্র পুড়িয়ে, নির্বাচন কর্মকর্তাসহ মানুষ পুড়িয়েও পারেনি, ভোট হয়েছে। ২০১৮ সালেও প্রথমে বয়কট ও পরে অংশ নেন তারা। সাড়ে ১২ বছর ধরে তাদের তর্জন-গর্জন শুনে আসছি, খালি কলসি বাজে বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা শাখা থেকে ১১ জন সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব খতিয়ে দেখার উদ্যোগ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, পত্রিকায় এটি দেখেছি। সরকার দেখতেই পারে, কিন্তু কি কারণে করা হলো সে বিষয়ে আমি খোঁজ নেব।

দীর্ঘদিন অপ্রকাশিত ১০টি দৈনিক পত্রিকার ঘোষণাপত্র বাতিলাদেশ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী ড. হাছান বলেন, প্রায় চারশ পত্রিকা চরম অনিয়মিত রয়েছে, যারা প্রায় দুই বছর চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরে পত্রিকা জমা দেননি। এগুলো ভূতুড়ে পত্রিকা, যেদিন বিজ্ঞাপন পায় সেদিন কয়েক কপি ছাপে আর অনেকে অল্প কয়েক কপি ছেপে শুধু তথ্য মন্ত্রণালয় আর কিছু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দেয়। ভূতুড়ে পত্রিকার কি প্রয়োজন সেটিই প্রশ্ন এবং এগুলো বন্ধের দাবি সাংবাদিকদেরই।

এর আগে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তির অকুতোভয় প্রাণ মাস্টারদা সূর্যসেন এবং প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার স্মরণে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ১৯৩০ এবং তারুণ্যের প্রেরণা’ বিষয়ে ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

সূর্যসেন, প্রীতিলতা এবং তাদের সহযোগী বিপ্লবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাদের দেশপ্রেম বাল্যকাল থেকেই। তারা দেশ ও মানুষের জন্য প্রেরণা যুগিয়েছেন।

ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীর সভাপতিত্বে ও সহযোগী সংস্থা ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক ড. নীপা চৌধুরীর সঞ্চালনায় আসাদুজ্জামান নূর এমপি, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতার, চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রদীপ ঘোষ এবং ইয়ুথ অপরচুনিটি সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড. ওসামা বিন নূর ওয়েবিনারে বক্তব্য দেন।

পরে মন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সভায় যোগ দেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউর রহিম লাল, সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি প্রমুখ সভায় বক্তব্য দেন।