আলমডাঙ্গায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ১

প্রধান আসামি মুলাম হোসেনকে গ্রেফতার

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আটজনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই নারী বুধবার রাতে বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় মামলাটি করেন।

মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ওই নারীকে আসমানখালী বাজারের একটি বাড়িতে নিয়ে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। পুলিশ মামলার প্রধান আসামি মুলাম হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার মুলাম হোসেন (৫০) উপজেলার শালিকা গ্রামের আবু ছদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার রুইতনপুর গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা ওই নারী পার্শ্ববর্তী আসমানখালী গ্রামের মিজানুর রহমান কলুর কাছে একটি কাজ ঠিক করে দিতে অনুরোধ করেন। মিজানুর রহমান কলু কাজ ঠিক করে দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে আসমানখালী বাজারে আসতে বলেন ওই নারীকে। গত মঙ্গলবার দুপুরে ওই নারী আসমানখালী বাজারে মিজানুর রহমান কলুর সঙ্গে দেখা করেন। এসময় কলুর সঙ্গে থাকা পার্শ্ববর্তী শালিকা গ্রামের মুলাম হোসেন কাজটি করে দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে বাজারের একটি দ্বিতল ভবনের কক্ষে নিয়ে যান।

পুলিশ আরও জানায়, তাদের সঙ্গে বন্দরভিটা গ্রামের মৃত সেন্টুর ছেলে রিপন ওরফে লিপন (৩৫), শালিকা গ্রামের বারেক আলীর ছেলে হাসান (৪০), জসিম উদ্দিনের ছেলে নাজিরুল (২৫), মহেশপুর গ্রামের মৃত তপেল বিশ্বাসের ছেলে হাবু (৪২) ও নান্দবার গ্রামের মান্নানের ছেলে হামিদুল (৩৪) মিজানুর কলুর সঙ্গে যোগ দেন। ওই নারী আসবে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে মিজানুর রহমান কলু আগে থেকেই তাদের মুঠোফোনে ডেকে নেন। এরপর তারা জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ওই নারীকে। ধর্ষণ শেষে তারা বিকেলের দিকে ওই কক্ষে ফেলে রেখে চলে যায় ওই নারীকে। পরে ওই নারী সেখান থেকে বাড়ি চলে যান। বাড়ি যাওয়ার পথে অভিযুক্ত মিজান ও রিপন ওই নারীকে টাকা দিতে চান। এসময় ওই নারী টাকা নিতে না চাইলে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য তাকে হুমকি দেওয়া হয়।

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবীর জানান, বুধবার রাতে ওই নারী আলমডাঙ্গা থানায় এসে সাতজনের নাম উল্লেখসহ আরেকজনকে অজ্ঞাত করে মামলা করেন। রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১ নম্বর আসামি মুলামকে গ্রেফতার করে।

তিনি আরও জানান, ধর্ষণের শিকার ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আজ বৃহস্পতিবার হাসপাতালে নেওয়া হবে। পাশাপাশি আসামি মুলামকেও আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।