কুষ্টিয়ায় এসিড মিশ্রিত পানি খাইয়ে স্বামী হত্যার অভিযোগ

ছবি ফেসবুক

কুষ্টিয়ায় পানির সঙ্গে এসিড পান করিয়ে জাকির হোসেন (২০) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। রোববার রাত ১০টার দিকে কুষ্টিয়া পৌরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কুমারগাড়া গ্রামের পূর্বপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

অসুস্থ অবস্থায় জাকিরকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরদিন সোমবার অবস্থায় অবনতি ঘটলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। এ নিয়ে নিহত জাকিরের বাবা তাঁর ছেলের স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

জানা যায়, নিহত জাকির-সোনিয়া দম্পতির একটি শিশু কন্যা আছে। তাঁদের বাড়ি একই এলাকায়। জাকির পানির লাইন মেরামতের কাজ করতেন। তিনি কুষ্টিয়া পৌরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কুমারগাড়া গ্রামের পূর্বপাড়ার আলমগীর হোসেনের ছেলে।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বছরখানেক আগে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে প্রতিবেশী শুকুর আলীর মেয়ে সোনিয়াকে বিয়ে করেন জাকির। বিয়ের পর থেকে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ লেগেই থাকত। এর জের ধরে কয়েক দিন আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে স্ত্রী সোনিয়া রাগে-অভিমানে তাঁর বাবার বাড়ি চলে যান। রোববার রাতে শ্বশুর শুকুর আলীর বাড়িতে যান জাকির। পরে তাঁর স্ত্রী বাড়িতে ফিরতে রাজি না হলে তিনি বাড়ি ফিরে যান। বাড়ি যাওয়ার পর জাকির গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সোমবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের বাবা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘সোনিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। রোববার রাতে শ্বশুর বাড়ি গেলে স্ত্রী সোনিয়া পানির সঙ্গে এসিড মিশিয়ে খাওয়ায় জাকিরকে। এর কিছুক্ষণ পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাকির অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হয়। পরে রাজশাহী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে সে মারা যায়।’

নিহতের বাবার এই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার বেলা ৩টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

সোনিয়ার বাবা শুকুর আলী বলেন, ‘আমাদের ওপর মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় আমার মেয়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করত। এ কারণে আমার মেয়ে আমাদের বাড়ি চলে আসে। আর এখন মিথ্যা অভিযোগে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, জাকিরের শরীরে খাদ্যে বিষক্রিয়ার প্রভাব ছিল। রোববার রাতে তাঁকে ভর্তি করানো হয়। সোমবার তাঁকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাব্বিরুল আলম বলেন, নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা হত্যার অভিযোগ করেছেন। মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।