শেষ ওভারে বাজিমাত রাজস্থানের

ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা। কখন যে কি হয়, বলা মুশকিল। জেতা ম্যাচও হাতছাড়া হয়। আবার হারা ম্যাচও জিতে যাওয়া যায়। এরই নাম ক্রিকেট। ভাগ্য কখন সঙ্গ দেবে কেউ জানেনা। মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) চলতি আইপিএলে অন্যতম সেরা ম্যাচ দেখল ক্রিকেটপ্রেমীরা। টানটান উত্তেজনা, পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকল ম্যাচের ভাগ্য। জেতা ম্যাচও হেরে বসল পাঞ্জাব কিংস। আর হেরে যাওয়া ম্যাচ জিতল রাজস্থান রয়্যালস।

পাঞ্জাব কিংসের জয়ের জন্য শেষ ওভারে দরকার ৪ রান। ক্রিজে দুই সেট ব্যাটসম্যান। নিকোলাস পুরান আর এইডেন মার্করাম। ডাগ আউটে হাসি মুখে লোকেশ রাহুলরা। বল করতে গেলেন তরুণ পেসার কার্তিক তিয়াগী। শেষ ওভারে দিলেন মাত্র ২ রান। নিলেন ২ উইকেট। একদম অবিশ্বাস্য। একটা দল ম্যাচ হেরে বিশ্বাস করতে পারছে না। আরেকটা দলের সমর্থকরা হারা ম্যাচ জিতেও বিশ্বাস করতে পারছে না।

টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাঞ্জাব কিংস। পাঞ্জাবের জার্সিতে এদিন ৩ ক্রিকেটারের অভিষেক হয়। ঈশান পোড়েল, আদিল রাশিদ এবং এইডেন মার্করাম। শুরু থেকেই মারমুখী মেজাজে ব্যাটিং করতে থাকে রাজস্থান রয়্যালস। এভিন লুইস-যশস্বী জাসওয়াল ওপেনিং জুটিতে করেন ৫৪ রান। ২১ বলে ৩৬ করেন লুইস। ব্যর্থ হন রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন। ৪ রান তাকে আউট করেন ঈশান পোড়েল। ১৭ বলে ঝড়ো ২৫ রান করেন লিভিংস্টোন। ৪৯ রান করেন যশস্বী। মহিপাল লোমরোরের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে বড় রান করে রাজস্থান রয়্যালস। ১৭ বলে ৪৩ করেন লোমরোর। ২০ ওভারে ১৮৫ রান করে রাজস্থান রয়্যালস। ৫ উইকেট নেন আর্শদীপ সিং। ৩উইকেট নেন সামি।

১৮৬ রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকে বিধ্বংসী ব্যাটিং করতে থাকেন মায়াঙ্ক-রাহুল জুটি। রাহুল-মায়াঙ্ক ওপেনিং জুটিতে উঠল ১২০ রান। ৪৯ রান করেন লোকেশ রাহুল। পাঞ্জাব অধিনায়কের বেশ কয়েকটা ক্যাচ ফেলেন রাজস্থানের ফিল্ডাররা। ৪৩ বলে ৬৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস মায়াঙ্কের। নিকোলাস পুরান আর এইডেন মার্করামের তৃতীয় উইকেটের জুটিতে আসে ৫৭ রান। কিন্তু ম্যাচের শেষ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে মুস্তাফিজুর রহমানের রাজস্থান রয়্যালসকে জয় এনে দেন কার্তিক তিয়াগী। ২ রানের নাটকীয় এ জয়ের ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন টাইগার পেসার মুস্তাফিজও।