আজ রাতে চুয়াডাঙ্গার দুই খুনির ফাঁসি কার্যকরে প্রস্তুত মঞ্চ, জল্লাদদের প্রশিক্ষণ শেষ

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে সোমবার দু’হত্যাকারীর ফাঁসি কার্যকর হবে। এ লক্ষ্যে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত, স্বজনদের শেষ দেখা ও জল্লাদদের প্রশিক্ষণও শেষ হয়েছে। ইচ্ছানুযায়ী শেষ খাবার হিসেবে তারা বার্গার ও মুরগীর গ্রিল খেয়েছেন।

 

২০০৭ সালের ১০ আগস্ট ফাঁসির আসামি হিসেবে যশোর কারাগারে প্রবেশ করেন মিন্টু ও আজিজুর। দীর্ঘ ১৪ বছর পর আজ রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ওই দু’জনের ফাঁসি কার্যকর হবে। বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ১৬ নম্বর কনডেম সেলের এক নম্বর কক্ষে রয়েছেন মিন্টু ওরফে কালু। তিনি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রায়ের লক্ষীপুর গ্রামের আলী হিমের ছেলে। দুই নম্বর কক্ষে রয়েছেন একই গ্রামের বদর ঘটকের ছেলে আজিজুর রহমান ওরফে আজিজুল। তারা আলমডাঙ্গা উপজেলার জোরগাছা হাজিরপাড়া গ্রামের কমেলা খাতুন ও তার বান্ধবী ফিঙ্গে বেগমকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

 

গত শনিবার (০২ অক্টোবর) যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে শেষবারের মতো তাদের দুজনের স্বজনরা তাদের সঙ্গে দেখা করেন। বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে টানা ১৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে স্বজন হারানো দুই পরিবারের।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, চুয়াড়াঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জোড়গাছা হাজিরপাড়া গ্রামের কমেলা খাতুন ও তার বান্ধবী ফিঙ্গে বেগম ২০০৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর খুন হন। হত্যার আগে তাদের দু’জনকে ধর্ষণ করা হয় বলে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় । প্রতিবেদনে বলা হয়, গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা কাটা হয় ওই দুই নারীকে। এ ঘটনার পরদিন নিহত কমেলা খাতুনের মেয়ে নারগিস বেগম আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত দু’জনসহ চারজনকে আসামি করা হয়। অপর দু’জন হলেন, সুজন ও মহি।

 

মামলা বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান মহি। ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সুজন, আজিজ ও মিন্টুকে মৃত্যুদন্ড দেয়। পরে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট তা বহাল রাখে। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ দু’ আসামির রায় বহাল রেখে সুজনকে খালাস প্রদান করে। গত ২০ জুলাই যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান সুজন।

 

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার তুহিন কান্তি খান বলেন, ফাঁসি কার্যকর করতে কেতু কামার, মশিয়ার রহমান, লিটু হোসেন ও আজিজুর রহমানসহ আটজন জল্লাদকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ফাঁসি কার্যকরের সময় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির অনুরোধে তাদের স্বজনদের সঙ্গে শেষ দেখাও সম্পন্ন হয়েছে। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী শনিবার গরুর কলিজা, ইলিশ মাছ খাওয়ানো হয়েছে। রোববার গ্রিল ও নান রুটি আর সোমবার মুরগির মাংস, দই আর মিষ্টি খাওয়ানো হয়েছে।

 

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আপিল বিভাগের রায় শেষে রাষ্ট্রপতির কাছে সাধারণ ক্ষমা নামঞ্জুর হলে সরকারের পক্ষ থেকে আসামির ফাঁসি কার্যকরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কারও ফাঁসি কার্যকরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়া গেলে কারা অধিদফতর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষকে জানায়। এরপর কারাবিধি মেনে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফাঁসির মঞ্চে রশিতে ঝুলিয়ে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। অনেকেই ফাঁসির মঞ্চে কিছুটা দুর্বল হয়ে যান।