বানারীপাড়ায় সাবেক বিএনপি নেতা নৌকার প্রার্থী

বরিশালের বানারীপাড়ায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এবং সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন মৃধাকে উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

দলীয় সুত্রে জানা গেছে, ৫ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকালে বানারীপাড়া উপজেলা ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ ‘একক’ প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রে সাবেক বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন মৃধার নাম পাঠায়। এ খবর জানার পরে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিএনপি নেতার হাতে নৌকা তুলে দেওয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তাতে আওয়ামী লীগের শত শত নেতা-কর্মী ও সমর্থক নিন্দা জানানোর পাশাপাশি তাদের ক্ষুদ্ধ মন্তব্য তুলে ধরেন।  যা ব্যাপক ভাইরাল হয়।

 

এছাড়া দলীয় অফিস থেকে চায়ের দোকানসহ সব আড্ডা আলাপে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। সৈয়দকাঠি ইউপি নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ১১ আওয়ামী লীগ নেতা। এরা হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আ.মন্নান মৃধা,সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন মন্টু,সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মৃধা,উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আ.রাজ্জাক মাষ্টার,সদস্য তারিকুল ইসলাম তারেক,ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাইদুর রহমান,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি হাফিজুর রহমান মামুন,আওয়ামী লীগ নেতা মিঠু ঘরামী,পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক সিবিএ শ্রমিকলীগ নেতা বজলুর রহমান,আওয়ামী লীগ নেতা নুর হোসেন ও কবির হোসেন মোল্লা প্রমুখ।

 

বর্তমান চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগের ডাকসাইটের ‘যোগ্য’ ১১ জন নেতা দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকার পরেও দলে অনুপ্রবেশকারী সাবেক বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন মৃধাকে হায়ারে এনে চূড়ান্ত প্রার্থী করে তার একক নাম কেন্দ্রে জমা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শুরুতেই অভিযোগ ওঠে সৈয়দকাঠি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিএনপির শাসনামলের কুশীলবরা স্থানীয় আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতাদের কাঁধে ভরকরে স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের শক্তিকে দূর্বল ও কৌশলে বিএনপির রাজনীতিকে ওই ইউনিয়নে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে তাদের অঢেল অর্থের বিনিময়ে নৌকার টিকিট পেতে দৌঁড়ঝাঁপ করছেন। বিএনপি থেকে আসা নব্য আওয়ামী লীগার আনোয়ার হোসেন মৃধা ছাড়াও জোট সরকারের সাবেক হুইপ সৈয়দ শহীদুল হক জামালের স্নেহ ও আস্থাভাজন উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রভাবশালী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বালীও নৌকার টিকিট পেতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।

 

অভিযোগ রয়েছে ২০০৩ সালে  বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন মৃধা জোট সরকারের তৎকালীণ প্রভাবশালী হুইপ এবং পিরোজপুর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সৈয়দ শহীদুল জামালের আর্শীবাদ সিক্ত হয়ে তার ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই সময় সংখ্যালঘুদের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করার পাশাপাশি ভোট কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। পরবর্তীতে তিনি ২০১৬ সালের ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত সৈয়দকাঠি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী আব্দুল মন্নান মৃধার বিরোধীতা করে প্রথমে নিজে প্রার্থী হন পরে তা প্রত্যাহার করে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হানিফ হাওলাদারকে নেপথ্য সমর্থন করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। আনোয়ার হোসেন মৃধার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তার মেয়ে জামাতা আসাদুল ইসলাম বাদল বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য এবং দু’ভাতিজা সাইফুল ইসলাম শান্ত উপজেলা ছাত্রদলের বর্তমান যুগ্ম আহবায়ক ও রফিকুল ইসলাম জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক। আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তারা বিএনপির সন্মূখ সারিতে থাকেন।

 

এদিকে সৈয়দকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আ.মন্নান মৃধা অভিযোগ করেন ২০০৮ সালে তারেক জিয়ার মুক্তি ও ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী এস সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টুর সফলতা কামনা করে আনোয়ার হোসেন মৃধা দোয়া-মিলাদের আয়োজন করেছিলেন। এর তিরস্কারের পরিবর্তে ‘পুরস্কার’ হিসেবে তিনি পেলেন নৌকার মনোনয়ন আর যারা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে হামলা মামলা ও চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা হলেন ‘বঞ্চিত’ এর চেয়ে দুঃখবেদনার কিছু নেই।

 

অপরদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলে অনুপ্রবেশকারী (কাউয়া) ও দুর্নীতিবাজদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলে সম্প্রতি যে বার্তা দিয়েছিলেন তাতে আশান্বিত হয়েছিলেন দলের তৃনমূলের নেতা-কর্মীরা। কিন্তু বানারীপাড়ার সৈয়দকাঠি ইউপি নির্বাচনে দলে সেই ‘অনুপ্রবেশকারী’ আনোয়ার হোসেন মৃধাকে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক নৌকার প্রার্থী করায় নেতা-কর্মীরা চরমভাবে আশাহত হন। তারা ‘হাইব্রিড’ আনোয়ার হোসেন মৃধার পরিবর্তে আওয়ামী লীগের কোন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় প্রতিবাদের ভাষা হবে আন্দোলন-সংগ্রাম।