ওমানকে হারিয়ে আশা জিইয়ে রাখল বাংলাদেশ

বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে হেরে যায় বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার ওমানের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে প্রথমে ব্যাট করে ১৫৩ রান করে টাইগাররা। সেই লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে নির্ধাতিত ২০ ওভারে ১২৭ রান করে তারা। ফলে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ওমানকে ২৬ রানে হারিয়ে বিশকাপের মূলপর্বে খেলার আশা জিইয়ে রাখল টাইগাররা।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) ওমানের রাজধানী মাসকটের আল আমেরাত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বোলিং ইনিংসের সূচনা হয় অনেক ভাবে। বাজে বোলিংয়ে প্রথম ওভারে ১২ রান খরচ করেন তাসকিন আহমেদ। দ্বিতীয় ওভারে একটা উইকেট মিললেও ওই ওভার শেষ করতে ১১টি ডেলিভারি করতে হয় মুস্তাফিজুর রহামনকে। পাঁচটি ওয়াইড দেন তিনি। কিন্তু এরপরই যেন পথ হারায় বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ মিস করেছেন মুস্তাফিজ-মাহমুদউল্লাহ। ১১ ওভারে ওমানের স্কোর ছিল ২ উইকেট হারিয়ে ৮০ রান। এমন অবস্থা থেকে ওমানের জয় খুবই সম্ভব মনে হচ্ছিল।

 

১২তম ওভারে ওমানের অধিনায়ক জীসান মাকসুদকে ফিরিয়ে স্বস্তি আনেন মুস্তাফিজ। পরের ওভারে সাকিব আল হাসান দুর্দান্ত খেলতে থাকা যতিন্দ্রন সিংকে ফেরালে ম্যাচের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যায়। এরপর একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে ওমানকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেননি সাকিব, মুস্তাফিজ। স্পিনিং অলরাউন্ডার মাহেদি হাসান আজও ভালো বোলিং করেছেন। ওমানের মিডল ও লোয়ার অর্ডার এই তিনজনের বিপক্ষে রীতিমতো ভেঙে পড়ে। শেষ দিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো ওমান ২০ ওভারে ৯ উইকেটে থেমেছে ১২৭ রানে। বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজুর রহমান ৪ ওভারে ৩৬ রান খরচায় নিয়েছেন চার উইকেট। সাকিব চার ওভারে ২৮ রান খরচায় নিয়েছেন তিন উইকেট।

এর আগে, সাকিব আল হাসান ও নাইম শেখের ৮০ রানের দুর্দান্ত জুটির ওপর ভর করে ১৫৩ রানের সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। শুরুর এবং শেষের ব্যাটিংটা ভালো হয়নি টাইগারদের। ওপেনার লিটন দাস সুবিধা করতে পারেননি। ৭ বলে ৬ রান করে যখন ফিরলেন বাংলাদেশের রান তখন ১১। পাওয়ার প্লেতে দ্রুত রান তোলার ছক কষে স্পিনিং অলরাউন্ডার শেখ মাহেদি হাসানকে নামানো হয়েছিল তিনে। মেহেদি সফল হতে পারেননি। ৪ বল খেলে কোন রান না করেই ফিরেছেন।

 

তরুণ ওপেনার নাইম শেখ ও সাকিব আল হাসান তৃতীয় উইকেটে ৫৩ বলে তোলেন ৮০ রান। এই দুইজন ক্রিজে থাকার সময় বড় সংগ্রহ খুবই সম্ভব মনে হচ্ছিল। কিন্তু দুর্দান্ত খেলতে থাকা সাকিব আল ১৪তম ওভারে আলসে রান আউট হওয়ার পরই পাল্টে যায় ইনিংসের গতিপথ।

মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের আগে পাঠানো হয় নুরুল হাসান সোহান ও আফিফ হোসেন ধ্রুব। দুইইজন উইকেটে নেমেই হিট করতে চেয়েছেন। কিন্তু সফল হতে পারেননি একজনও, দুজনই সীমানায় ধরা পড়েছেন। এরপর মুশফিকুর রহিমের আউটটি ছিল একদমই দৃষ্টিকটু। ফায়াজ ভাটের এক নির্বিশ স্লোয়ারে খোঁচা দিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মুশি।

 

সাকিব-নাইম জুটি ভাঙার পর বাকিদের কেউই সুবিধা করতে পারেননি। এই দুইজন ছাড়া দুই অঙ্কের কোটা পেরুতে পেরেছেন কেবল অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ১০ বলে একটি করে চার ছয়ে ১৭ রান করেছেন রিয়াদ। সাকিব আল হাসান ২৯ বল খেলে ৬টি চারে ৪২ রান করেন। নাইম ৫০ বলে ৩টি চার ৪টি ছয়ে ৬৪ রান করেছেন। ৫২ রানে শেষ আট উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ওভারের শেষ বলে ১৫৩ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ওমানের হয়ে তিনটি করে উইকেট পেয়েছেন বেলাল খান ও ফায়াজ ভাট।