ডিএমপি কমিশনার হিসেবে বহাল থাকছেন মোহা. শফিকুল ইসলাম

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে বহাল থাকছেন মোহা. শফিকুল ইসলাম। অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) বাতিল করে তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে।

 

আগামী সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি দেশে ফিরলে তার এ ছুটি বাতিল করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিএমপির দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

ডিএমপির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, মোহা. শফিকুল ইসলামের চাকরির মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন।

যদিও বৃহস্পতিবার নিয়ামানুযায়ী ডিএমপি কমিশনারের অবসরের বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 

সূত্র জানায়, সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী অবসরে যাওয়ার এক সপ্তাহ আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তার পিআরএলের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতি দেশে ফিরে পিআরএলের প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করবেন। তখন নিয়োগের বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

 

মোহা. শফিকুল ইসলাম ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি সিআইডি প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

শফিকুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার নওদাবন্ড বিল দোয়ারপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৬২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মো. শওকত আলী ও মায়ের নাম বেগম সুফিয়া খাতুন।

 

তিনি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ কমিশনার হিসেবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে ডিআইজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জ এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি পদন্নোতি পেয়ে অ্যাডিশনাল আইজিপি হিসেবে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট, ঢাকায় যোগ দেন। ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর অ্যাডিশনাল আইজিপি হিসেবে পুলিশ হেডকোয়ার্টাসে এবং সবশেষ ২০১৯ সালের ১৬ মে তিনি অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) প্রধান হিসেবে যোগদান করেন।

কর্মক্ষেত্রে অনন্য পেশাদারিত্ব, সততা ও সুনিপুণ দক্ষতার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি পরপর দুবার বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পুরস্কার বিপিএম পদক লাভ করেন। ২০১৪ সালে ডিআইজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জ এবং ২০১৭ সালে ডিআইজি, ঢাকা রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে তিনি এ পদক লাভ করেন।

 

চাকরিজীবনে তিনি বুনিয়াদি কোর্স, ওরিয়েনটেশন কোর্স, এইড-টু-গুড ইনভেস্টিগেশন, কমান্ড অফিসার্স ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড কোর্ট কোর্স, সার্ভে অ্যান্ড সেটেলম্যান্ট ট্রেনিং, ন্যাশনাল অ্যান্ড ইকোনোমিক ক্রাইম কোর্স, সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট কোর্স, পেশাগত ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামসহ দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ কোর্স সম্পন্ন করেন।

তিনি আলমডাঙ্গা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং আলমডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এগ্রিকালচার বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

 

শফিকুল ইসলাম অষ্টম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি এএসপি হিসেবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, খাগড়াছড়ি জেলা ও মৌলভীবাজার জেলায় সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

পদোন্নতিক্রমে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে খাগড়াছড়ি জেলা ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। এরপর তিনি পুলিশ সুপার হিসেবে ৭ এপিবিএন-পটুয়াখালী জেলা, ২ এপিবিএন-সুনামগঞ্জ জেলা এবং কুমিল্লা জেলায় দায়িত্ব পালন করেন।