মিতু হত্যা মামলার আসামি ভোলা বেনাপোল থেকে গ্রেফতার

সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার আসামি এহতেশামুল হক ভোলাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেফতার করেছে। বেনাপোল বাজার এলাকার দুর্গাপুর রোড এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন ভোলার বন্ধু ছিদ্দিক আহমদ ও পরিবারের সদস্যরা।

 

ছিদ্দিক আহমদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বেনাপোল বাজারের দুর্গাপুর রোডে আমার অফিসে অভিযান চালায়। গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা আমার অফিস থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সদস্যরা আমাকে একপাশে নিয়ে যায়। পরে আমার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। এরপর ভোলাকে একটি গাড়িতে করে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে যশোর নিয়ে যাওয়া হয়।’

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, বুধবার রাতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কর্মকর্তারা এহতেশামুল হক ভোলার বন্ধু মুজিব ও কর্মচারী জাহেদকে চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থেকে আটক করে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বৃহস্পতিবার রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। জাহেদের কাছ থেকে ভোলার মোবাইল নম্বর নিয়ে ট্র্যাকিং করে তার অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। এরপর যশোর জেলা পুলিশের মাধ্যমে ভোলাকে গ্রেফতার করা হয়।

গত ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালতে আসামির পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হলে আদালত নামঞ্জুর করেন। এর আগে আলোচিত এ মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন এহতেশামুল হক ভোলা। পরে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ ভোলাকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দেন।

 

একইসঙ্গে জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তাকে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। ভোলা আত্মসমর্পণ না করে সময়ের আবেদন করেন। ভোলা হাইকোর্টের নির্দেশনা পালন না করায় আদালত সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

আসামি ভোলা মিতু হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রের জোগান দিয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

 

গত ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় মিতুকে। পরে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। যার বাদী ছিলেন সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার নিজেই। গত ১২ মে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন।