ব্রণ থেকে মুক্তি পেতে করনীয়

ব্রণ কি এই জিনিস নিয়ে সবারই মোটামুটি ধারণা রয়েছে। প্রত্যেকেই জীবনে কোনো না কোনো সময়ে মুখমন্ডলের ত্বকের ব্রণের শিকার হয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে ব্রণ জিনিসটা আসলে কি? মাঝে মাঝে ত্বকে ব্রণ ওঠা কোন রোগের কারণ হিসেবে প্রকাশ পেয়ে থাকে যা মোটেও সাধারণ না। কিন্তু সেটা জানার পূর্বে আমাদের ব্রণ জিনিসটা কি তা নিয়ে জানতে হবে।

ব্রণ থেকে মুক্তি পেতে করনীয়

ব্রণ প্রকৃতপক্ষে কী? 

ত্বকের অন্যতম একটি অস্বাস্থ্যকর সমস্যা হচ্ছে ব্রণ। প্রকৃতপক্ষে আমাদের মুখমন্ডলের ত্বকে সেবাসিয়াস নামক একটি গ্রন্থে রয়েছে যা থেকে সেবাম নামক এক ধরনের তৈলাক্ত পদার্থ নিঃসৃত হয়।


প্রতিনিয়ত সেবাম নামক এই তৈলাক্ত পদার্থ বের হয়ে যাওয়ার কারণে অনেকের মুখের স্কিন "অয়েলি স্কিন" হয়ে থাকে। তো যাই হোক যদি কোনো কারণে এই গ্রন্থির নালীর মুখগুলো বন্ধ হয়ে যায় তখন সেবাম নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত হয়।


বিভিন্ন কারণে এই পদার্থ নিঃসরণ হওয়ার গ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তার মধ্যে ধুলোবালি জমে থাকা কিংবা অন্য কোন জীবাণুর সংক্রমণের কারণে এই গ্রন্থের মুখ বন্ধ হয়ে যায়।


যখন সেবাম নামক এই তৈলাক্ত পদার্থটি আর নিঃসরণ হতে পারে না তখন সেটা ত্বকের নিচে জমে ফুলে উঠতে থাকে। এই ফুলে ওঠাটাই পরবর্তীতে ত্বক ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসে যা ব্রণ নামে পরিচিত। একটা সময় গিয়ে ব্রণ অনেক বেশি পরিমাণে যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে।


ব্রণকে ধরলেও যেন ত্বকে একপ্রকার ব্যথা করে। সেই সাথে মুখে লাল লাল ব্রন যেন একেবারেই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ব্রন হওয়া তাও মানা যায়, সমস্যাটা তখনই হয় যখন এই ব্রণের ওপর আবার জীবাণুর সংক্রমণ হয়।


যখন ব্রণের ওপর জীবাণু সংক্রমণ হয় তখন এতে পুঁজ তৈরি হতে থাকে। একটা সময়ে গিয়ে ব্রণ দূর করা গেলেও ব্রণের দাগ কিংবা গর্ত কখনোই সেভাবে দূর করা যায় না। আজীবন মুখে ব্রনের আবছা একটা দাগ ফেলে চলে যায়। 



ব্রণ আসলে কেন হয়? 

যদিও ব্রণ হওয়ার কারণ হিসেবে উক্ত তৈলাক্ত পদার্থ নিঃসরণ এর পথ বাধাগ্রস্ত হওয়াকেই দায়ী করা হয়। তবুও সুনির্দিষ্ট কারণ সেভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।


বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন হজমের সমস্যা, বয়সন্ধিকালে হরমোনের প্রভাব কিংবা অ্যালকোহল অথবা বংশগত কারণও এই ব্রণ হওয়ার অন্যতম কারণ।


আবার অনেকে বলে থাকেন প্রোপাইনি ব্যাকটেরিয়াম একনিস নামের এক ধরনের জীবাণু সংক্রমণের জন্যেও ত্বকে ব্রণ হয়ে থাকে। 



ত্বকে ব্রণ হলে যা যা করতে হবে-

ব্রণ হওয়া ত্বকের জন্য সত্যিই অস্বাস্থ্যকর একটি সমস্যা। কেউই চায় না তার মুখে ব্রণ হোক। কিন্তু যখন ব্রণ হয়ে যায় তখন আর কিছু করার থাকে না। যতদিন পর্যন্ত ব্রণ প্রাকৃতিক ভাবে দূর না হয় ততদিন পর্যন্ত সেরকম কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায় না।


এতে করে হিতে-বিপরীত অবস্থার পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। প্রাকৃতিক ভাবে হয়তো ব্রণ দূর করা সম্ভব হয় না কিন্তু ব্রণ ক্রমাগত বড় হয়ে ফুলে ওঠাটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং ব্রণের সংখ্যা যাতে বৃদ্ধি না পায় সেই চেষ্টা সবসময় করে যেতে হবে।


কি কি করলে ত্বকে ব্রণ হওয়ার সংখ্যা কমে যাবে এবং ব্রণও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেবে সেটা জেনে নেই।


ব্রণ এর মতো যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা থেকে বাঁচতে হলে দিনে আপনাকে কমপক্ষে দুই থেকে তিনবার ফেসওয়াশ কিংবা সাবান দ্বারা মুখমন্ডল ভাল করে ধুতে হবে। এতে করে ত্বকে জমে থাকা ধুলাবালি কিংবা অন্যান্য জীবাণুর সংক্রমণ সেবাসিয়াস গ্রন্থির মুখের পথ আটকে রেখেছে তা দূর হয়ে যাবে।


মুখের প্রসাধনী ব্যবহার করার সময় তেল ছাড়া ওয়াটার বেসড মেকআপ ব্যবহার করতে পারেন। মাথা খুশকিমুক্ত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। কারণ খুশকির কারণেও ত্বকে ব্রণ হয়। কখনোই একই তোয়ালে পরিবারের সকল সদস্য ব্যবহার করবেন না।


আপনার নিজের জন্য আলাদা তোয়ালে রাখুন এবং সেটাই ব্যবহার করুন এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাবেন এবং কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা থাকলে সেটাও দূর করার ব্যবস্থা নেবেন। 




মুখমন্ডলের কোন স্থানে ব্রণ হলে কোন রোগের প্রকাশ করে থাকে?

আমাদের মুখমন্ডলে কপাল, গাল, নাক, চিবুক ইত্যাদি অংশ রয়েছে। প্রত্যেক অংশেই ব্রণ হতে পারে। কখনো কখনো ব্রণ হওয়াটা স্বাভাবিক।


কিন্তু মাঝে মাঝে এরকম বিষয়ও দেখা গিয়েছে যে কোন একটা নির্দিষ্ট সমস্যার কারণে ত্বকে ব্রণের উৎপত্তি হয়েছে। আমরা এখন জেনে নেবো ঐ সকল রোগ কিংবা সমস্যা গুলো কি কি যার কারণে ত্বকের এই অংশগুলোতে ব্রণ হয়ে থাকে।



চিবুক

চিবুকে ব্রণ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু বলা হয়ে থাকে শরীরের হরমোনের পরিবর্তন হলে এই চিবুকে প্রচুর পরিমাণে ব্রণ হতে থাকে।


তাছাড়া মেয়েদের মাসিকের সমস্যা যদি থেকে থাকে তবেও চিবুকে প্রচুর পরিমাণে ব্রণ ওঠে। 



গাল

গালে ব্রণ হওয়ার অন্যতম কারণ বায়ুদূষণ কিংবা ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। এছাড়াও রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি কিংবা শ্বাসকষ্টের সমস্যা ইত্যাদি থাকলেও গালে ব্রণ হতে পারে।


গালে ব্রন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মাস্ক কিংবা স্কার্ফ ব্যবহার করতে পারেন। 



কপাল

হজমের ব্যবস্থা ভালো না কিংবা দুশ্চিন্তা অথবা লিভারের সমস্যা এবং অনিদ্রার মতন অসুবিধা হয়ে থাকলে কপালে ব্রণ উঠতে থাকে। কপালে যদি স্বাভাবিক কারণে ব্রণ ওঠে থাকে তবে বেশি বেশি পানি পান করার চেষ্টা করবেন। 



নাক

উচ্চ রক্তচাপ ও হার্টের অসুখের কারণে নাকে ব্রণ ওঠার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে আপনাকে নিয়মিত পরিষ্কার এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে হবে  সেইসাথে মেইনটেইন করতে হবে ডায়েট।