দামুড়হুদায় আগাম তরমুজে ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও লোকসানের আশংকায় স্থানীয় চাষিরা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় দেশের নিম্ন অঞ্চল থেকে আসা সামার ওয়াটারমিলন (গ্রীস্মকালীন তরমুজ) ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও স্থানীয় কৃষকদের লোকসান গুনতে হবে বলে আশংকা করছেন তারা।

দামুড়হুদায় আগাম তরমুজে ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও লোকসানের আশংকায় স্থানীয় চাষিরা
দামুড়হুদায় আগাম তরমুজে ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও লোকসানের আশংকায় স্থানীয় চাষিরা

উপজেলা এই চাষ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেলেও আগাম দেশের নিম্ন অঞ্চল থেকে আসা রসালো ফলের রমজান মাসে ব্যপক চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরা চিস হিসাবে ক্রয়করে এনে কেজিতে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে এইচাষ দেরিতে হলেও অনেকে আগাম চাষ করে তাদের এই ফল বাজারজাত করতে পেরে লাভবান হয়েছে।ভরা মৌসুমে বপনকরা কৃষকরা বাজার দর নিয়ে আশংখা করছেন। চলতি রমজান মাসে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বরিশাল,ভোলা,পিরোজপুরসহ বিভিন্ন নিম্ন অঞ্চল থেকে আগাম চাষের এই ফল চিস হিসাবে কিনে চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরসহ বিভিন্ন বাজারে কেজি দরে বিক্রি করছে। এতেকরে তারা ভালো লাভবান হচ্ছে। তবে চুয়াডাঙ্গা এলাকায় এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় এর রোপন করার সঠিক সময় হলেও অনেক চাষী আগাম ফেব্রয়ারী মাসে চাষ করেছে। তারা রমজান মাসের শুরু থেকে কিছু কিছ বাজারজাত করতে পেরে ভালো বাজারদর পাওয়ায় বেজায় খুশি তারা।অপর দিকে অধিকাংশ চাষী ভরা মৌসুমে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় যারা এই তরমুজ বপন করেছে তারা বাজার দর ভালো না পাওয়ার আশংখা করছেন। 
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে উপজেলায় ৭৫ হেক্টর জমিতে এই তরমুজ চাষ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ১০৬ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। যা গত মৌসুমের চেয়ে ৩১ হেক্টর জমিতে বেশি। উপজেলার  হৈবতপুর, মদনা, কামারপাড়া, বাড়াদী, বিষ্ণুপুর,কলাবাড়ী  গ্রামের মাঠে এই চাষ হয়েছে।এর মধ্যে বিষ্ণুপুর,কলাবাড়ী গ্রামের মাঠে এই চাষ সব থেকে বেশি হয়েছে। দামুড়হুদার বিষ্ণুপুর গ্রামের সামসুল ইসলাম জানান, তিনি গ্রামের মাঠে দুই বিঘা জমিতে মাচা পদ্ধতিতে আগাম এই সামার ওয়াটারমিলন (গ্রীষ্মকালীন তরমুজ) চাষ করেছে। বীজ বপন পরিচর্যা সার মাচা সেচ মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। প্রথম রোজা থেকে সে বিক্রি শুরু করেছে কেজি প্রতি ৫০ টাকা ও প্রতি পিস ১৫০/২০০ টাকা দরে বিক্রি করছে। এরই মধ্যে তার এক বিঘা জমির প্রায় একলক্ষ টাকার বিক্রি হয়েছে এখোনো একবিঘা জমির ফল  ১০/১২ দিনের মধ্যে বিক্রি শেষ হবে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে বাজার দর এমন থাকলে আরো ১লক্ষ টাকার মত বিক্রি হবে। ৬০ দিনের এই ফসলে সকল খরচ বাদে তিনি লক্ষাধিক টাকা লাভবান হবে বলে আশা করছেন।
এদিকে গ্রামের চাষি শওকত আলী,রাজু আহাম্মেদ,সারজেত আলি ও আশিকুর রহমান বলেন,তারা মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় বপন করেছে। তাদের এই তরমুজ বাজার জাত করতে এখোনা বেষ কিছু দিন সময় লাগবে একেবারে রোজার শেষ দিকে কিছু তরমুজ বিক্রি করা সম্ভব হবে। এবার অতিরিক্ত তাপদাহে কোন বালাই নাশকে কাজ হচ্ছেনা। গাছে ফুল ফল শুকিয়ে যাচ্ছে। এতেকরে বিঘাপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০মন ফলন হওয়ার কথা। কিন্তু এবার ৫০ থেকে ৬০মনের উপর ফলন হবে না। এমনিতেই  রোজার পরে এর চাহিদা কিছুটা হলেও কুমে যাবে বাজার দরও কুমে যাবে আবার ফলন ও কম হলে তাদের আসল টাকা ফেরৎ আসা নিয়ে সংকিত তারা। 
দামুড়হুদার সীমান্তবর্তী বাড়াদি গ্রামের সুজন আলি জানান, সে ১০কাঠা জমিতে এই চাষ করেছে তবে অতিরিক্ত তাবদাহে এবার ফলের সাইজ ছোট হচ্ছে ও অতিরিক্ত তাবদাহের করনে ক্ষেতে ভাইরাস লেগেছে। কোন বালায় নাশকে ঠিকমত কাজ হচ্ছে না। ফলে ফলন অর্ধেকে নেমে আসবে রমজান মাসে এর চাহিদা খুব বেশি থাকে বাজার দরও ভালো থাকে। এসময় বাজার জাত করতে পারলে সামান্য পরিমান লাভ হতো। রোজার বাজার না পাওয়া ও ফলন কম হওয়ায় এবার লোকসান গুনতে হতে পারে।       
দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান জানান, সামার ওয়াটারমিলন ফসল তরমুজ খুবই অল্প সময়ের চাষ। আর এ ফসল চাষ করে চাষিরা লাভবান হচ্ছে। বেলে দো-আঁশ মাটিতে এই ফসল ভালো হয়ে থাকে। সাধারণত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে রোপন করার উপযুক্ত সময়। আমাদের এলাকার মাটি এই চাষের জন্য উপযোগী। এ মৌসুমে যে সকল চাষি আগাম চাষ করেছেন তারা লাভবান হয়েছেন। আমাদের এলাকায় আগে এ চাষ না হলেও বর্তমানে প্রতি বছরই এলাকায় চাষ বাড়ছে।